কৃষ্ণ সাগরে রুশ জলসীমায় দাপিয়ে বেড়ানো দানবীয় ফ্ল্যাগশিপ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার মস্কোভা। এই জাহাজেই আঘাত হানলো ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত যুদ্ধ জাহাজটি একপর্যায়ে ডুবে গেছে কৃষ্ণ সাগরে। গত ৪০ বছরের মধ্যে যুদ্ধ চলাকালীন কোনও জাহাজে এত বড় ক্ষতি শুধু মাত্র রাশিয়ার জন্য নয়, পুরো দুনিয়ার সামরিক পরিকল্পনাকারীদের জন্যও উদ্বেগজনক বিষয়।
ডুবে যাওয়ার কারণ কী?
কিয়েভের দাবি, নিজেদের তৈরি জাহাজ বিধ্বংসী নেপচুন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রুশ যুদ্ধ জাহাজটিতে হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী। আঘাত হানার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে মস্কো। কীভাবে হামলা হলো, সে বিষয় পরিষ্কার না করলেও জাহাজে থাকা বিস্ফোরক দ্রব্যের ভয়াবহ বিস্ফোরণে আগুন লাগার কথা জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ঘটনার পর ঝড়ো আবহাওয়ায় বন্দরে ফিরিয়ে আনার সময় বৃহস্পতিবার ডুবে যায় ব্ল্যাক সি ফ্লিটের ফ্ল্যাগশিপ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার মস্কোভা।
মস্কোভায় জাহাজ বিধ্বংসী এবং বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি টর্পেডো, নৌ অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত ছিল, যার অর্থ জাহাজে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক থাকার কথা।
শেষ কবে এই আকারের যুদ্ধ জাহাজ হারিয়ে গেছে?
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে যুদ্ধ চলছিল ১৯৮২ সালের ২ মে। সেই সময় আর্জেন্টাইন ক্রুজার জেনারেল বেলগ্রেনোকে অচল করে ডুবিয়ে দেয় ব্রিটেনের পারমাণবিক শক্তি চালিত সাবমেরিন এইচএমএস কনক্যুর। ওই ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। তখনকার ঘটনার সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ জাহাজে হামলা এবং ডুবে যাওয়া অনেকটা মিলে যায়। জেনারেল বেলগ্রেনো এবং মসকোভা আয়তনেও একই।
মস্কোভায় হামলায় হতাহত হয়েছে কিনা, এখনও কিছু জানায়নি রাশিয়া। তবে ঘটনার সময় ৩২৩ ক্রু জাহাজটিতে অবস্থান করছিলেন। আগুন ধরে যাওয়ার পরপরই ক্রুদের জাহাজ থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি মস্কোর।
ফ্ল্যাগশিপ জাহাজ হচ্ছে, কোনও নৌবহরের নেতৃত্বদানকারী জাহাজ যেটি অধিনায়ক ব্যবহার করে থাকেন। বহরের অন্যান্য জাহাজের তুলনায় ফ্ল্যাগশিপ জাহাজ সাধারণত খুবই দ্রুতগামী ও শক্তিশালী হয়। শত্রু পক্ষের ওপর হামলায় খুবই কার্যকরী এটি। ক্রুজার মসকোভা ২০০০ সাল থেকে কৃষ্ণ সাগরে রুশ নৌবহরের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। রাশিয়া ম্যারিটাইম স্টাডিজ ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মাইকেল পিটারসন বিবিসিকে জানান, সাড়ে ১২ হাজার টন ওজনের জাহাজ মস্কোভা রুশ নৌ-শক্তির অন্যতম প্রতীক।
সিরিয়াসহ রাশিয়ার বহু সামরিক অভিযানে এই জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, ইউক্রেনের ওপর হামলার কাজে ব্যবহৃত হলেও ১৯৮০-এর দশকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ইউক্রেনের একটি ডক ইয়ার্ডে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
এখন ইউক্রেনের সঙ্গে চলা যুদ্ধে রাশিয়ার এটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষ্ণ সাগরে এমন একটি ফ্ল্যাগশিপ জাহাজ ডুবে যাওয়ায় রাশিয়ার মনোবলে প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। আর রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের জন্য বড় বিজয় হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো।
সূত্র: সিএনএন