ইউক্রেনের সামরিক কমান্ডার এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। দেশটির অবরুদ্ধ বন্দরনগরী মারিওপোলের পরিস্থিতি নিয়ে এ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন তিনি। সেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মারিউপোলের ভাগ্য নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। জেলেনস্কি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘বিশদ বিবরণ এখন প্রকাশ করা যাবে না। তবে আমরা আমাদের লোকজনদের বাঁচাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।’
রুশ অবরোধ শুরু হওয়ার ছয় সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও মারিউপোলে ইউক্রেনীয় সেনারা পরাক্রমশালী রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহে ঘাটতি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও প্রতিরোধের লড়াই জারি রয়েছে সেখানে। ক্রেমলিনের হামলা পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিতে ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রতীক হয়ে উঠেছে এই বন্দর শহরটি। রুশ বাহিনীর হামলা আর ইউক্রেনীয়দের পাল্টা প্রতিরোধে শহরটি এখন যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় মেয়র জানান, শহরে এখনও এক লাখ ২০ হাজার মানুষ রয়ে গেছেন। যুদ্ধের আগে সেখানকার জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার লাখ।
২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই মারিউপোল রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। এই শহর দখলে নিতে পারলে ক্রিমিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও শিল্পাঞ্চলের স্থল করিডোর স্থাপন করতে পারবে রাশিয়া।
শুক্রবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ অভিযান শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো মারিউপোলে দূরপাল্লার বোমারু বিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মুখপাত্র অলেক্সান্ডার মোটোসিয়ানক বলেন, মারিউপোলের পথে পথে যুদ্ধ চলছে। সামরিক অভিযানের শুরু থেকে চেষ্টা চালিয়ে আসলেও এখনও পর্যন্ত শহরটি পুরোপুরি দখলে নিতে পারেনি রুশ বাহিনী।