‘কৃষ্ণসাগরের নৌবহর থেকে এখনও হামলার সক্ষমতা রয়েছে রাশিয়ার’

দানবীয় ফ্ল্যাগশিপ ক্ষেপণাস্ত্র মস্কোভাডুবির পরও কৃষ্ণসাগরের নৌবহর থেকে এখনও ইউক্রেনে হামলার সক্ষমতা রাশিয়ার রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগরের নৌবহর থেকে ইউক্রেনীয় ও উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার ক্ষমতা ধরে রেখেছে রুশ বাহিনী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষ্ণসাগরের অপারেশনাল জোনে রুশ নৌবাহিনীর সাবমেরিনসহ প্রায় ২০টি জাহাজ রয়েছে। তবে তুরস্ক বসফরাস প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় কৃষ্ণসাগরে মস্কোভার মতো বিশাল আকৃতির কোনও যুদ্ধজাহাজ প্রতিস্থাপন করা রাশিয়ার জন্য সম্ভব নয়।

গত ১৪ এপ্রিল রুশ নৌবাহিনীর কৃষ্ণসাগর বহরের প্রধান যুদ্ধজাহাজ মস্কোভা ডুবে যায়। জাহাজটিতে নিজেদের নির্মিত জাহাজ বিধ্বংসী নেপচুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানায় কিয়েভ। রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও দানবীয় আকারের নৌযানটিতে আগুন ধরে যাওয়ার কথা স্বীকার করা হয়। ওই সময়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, যুদ্ধজাহাজটির আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পরবর্তীতে মস্কো দাবি করে, আগুন ধরে যাওয়ার পর একপর্যায়ে ঝড়ের কবলে পড়ে সেটি ডুবে যায়।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান নিয়ে ব্যর্থতার বৃত্তে থাকা রাশিয়ার জন্য এই ঘটনা ছিল আরেকটি বড় ধরনের আঘাত। ইউক্রেন যুদ্ধের ৫০তম দিনে জাহাজটি ডুবে যায়। আর এমন সময় এই ঘটনা ঘটে যখন রাশিয়া পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলে বড় ধরনের আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, কৃষ্ণসাগরের নৌবহর থেকে এখনও ইউক্রেনে হামলার সক্ষমতা হারায়নি রাশিয়া।