ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের জেরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব পেশ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন। বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইইউ’র সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
বুধবার সকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে উরসুলা বলেন, ইইউ রুশ তেলের নির্ভরতা শেষ করতে চায়, যা ক্রেমলিনের রাজস্বের অন্যতম শক্তি। অপরিশোধিত তেল আমদানি আগামী ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাবে এবং ২০২২ সালের শেষ নাগাদ পরিশোধিত পণ্য।
প্রস্তাবিত নতুন দফার নিষেধাজ্ঞার একাধিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ‘সবেরবাংক', ক্রেডিট ব্যাংক অব মস্কো ও রাশিয়ান কৃষি ব্যাংকও রয়েছে। প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ব্যাংকগুলো আর আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ‘সুইফট' প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না।
ইচ্ছাকৃত ভুয়া খবর পরিবেশনের জন্য তিনটি বড় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে ইউক্রেনের বুচায় যুদ্ধাপরাধ ও মারিউপোলে অবরোধের সঙ্গে জড়িতসহ ৫৮ রুশ ব্যক্তিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে।
তবে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বন্ধে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা জানানো হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপের সদস্য রাষ্ট্রগুলো বিকল্প উপায় বের না করে রাশিয়া থেকে এখনই গ্যাস বন্ধে শক্ত অবস্থানে যেতে চাইছে না।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের উরসুলা বলেন, 'ইউক্রেনে নৃশংস আগ্রাসনের জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে চড়া মূল্য দিতে হবে'।
সূত্র: বিবিসি।