বিজয় দিবসের প্যারেডের মহড়া চালিয়েছে রাশিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় উদযাপনের প্রস্তুতি হিসেবে এই মহড়া চালানো হয়। ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনীর সারিবদ্ধ সদস্যদের ওপর দিয়ে জেড আকৃতিতে আকাশে উড্ডয়ন করে রুশ বিমান।
প্রতি বছর ৯ মে বিজয় দিবস উদযাপন করে রাশিয়া। ১৯৪৫ সালের এই দিনে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করে তৎকালীন নাৎসি জার্মানি। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের বাস্তবতায় এবার দিবসটি পালনের প্রেক্ষিত ভিন্ন রকমের। কারণ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবার ইউক্রেনে তার সামরিক অভিযানের পক্ষে নিজ দেশে জনসমর্থন তৈরি করতে মরিয়া হয়ে আছেন।
পশ্চিমা গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর দ্রুত লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে যুদ্ধ সমাপ্তির প্রত্যাশা করেছিল মস্কো। কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি। বরং ইউক্রেনীয় বাহিনীর জোরালো প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছে রুশ বাহিনীকে। রুশ বাহিনীর উচ্চপদস্থ কয়েকজন জেনারেলও ইউক্রেনে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতেই এই বছর বিজয় দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছে রাশিয়া।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এদিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পশ্চিমা গোয়েন্দারা।
এদিকে রাশিয়ার বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ইউক্রেন। দিবসটিকে কেন্দ্র করে ৮ ও ৯ মে কিয়েভের বাসিন্দাদের অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো। কারফিউ জারি না করলেও শহরজুড়ে বাড়ানো হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নাগরিকদের যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র বলেন, ‘বিমানের সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করবেন না। সামনের দিনে ইউক্রেনের সব অঞ্চলে মিসাইল হামলার ব্যাপক শঙ্কা রয়েছে। সতর্ক থাকুন এবং নিজেদের নিরাপত্তার দিকটি খেয়াল রাখুন।’ সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।