তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। তবে এই যুদ্ধের মধ্যেও থেমে নেই সেনাদের বিয়ের আয়োজন। রবিবারও (১২ জুন) এমন জোড়া বিয়ের আয়োজন প্রত্যক্ষ করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।
মাত্র কয়েক মাস আগেই সেনাবাহিনীতে এসে নিজেদের মধ্যে পরিচিত হন তারা। মে মাস থেকে ডনবাসে রুশ-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে তারা লড়াই করছেন।
রবিবার ছোট শহর ড্রুজকিভকাতে ফ্রন্টলাইনের ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে একসঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন দুই নবদম্পতি, যেখানে ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
রবিবার দিনটি ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল। তার মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে রণাঙ্গনে থাকা সেনারা ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেয় দুই জোড়া নবদম্পতিকে।
কনেদের একজন ২৩ বছরের ক্রিস্টিনা লিউটা মূলত একজন চুক্তিভিত্তিক সৈনিক। প্রাইভেট ফার্স্ট ক্লাস র্যাংকের এই সেনার পরনে ছিল সামরিক বাহিনীর ট্রাউজার ও বুট জুতা। সঙ্গে ইউক্রেনের ঐতিহ্যবাহী লাল রঙ্গের জামা। জামার হাতায় ফুলের এমব্রয়ডারি।
নিজের পোশাক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি এই ইউনিফর্মে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।’
মাত্র দুই মাস আগে স্বামী ভলোদাইমার মাইখালচুকের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তার। দক্ষিণ-পশ্চিম ভিনিটস্কা অঞ্চলে তারা একে অপরের চেয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বসবাস ছিল তাদের। যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন সেনাসমাবেশ না করলে হয়তো কখনও দেখা হতো না তাদের।
লিউটা তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যুদ্ধ যুদ্ধই! কিন্তু জীবন তো চলমান বিষয়।’
মাইখালচুক জানান, তাদের এই বিয়ে তাড়াহুড়ো করে নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত ছিল না। তার ভাষায়, ‘মূল বিষয় হলো আমরা একে অপরকে ভালোবাসি এবং আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই।’
অন্য পাত্রী ২৩ বছরের ক্রিস্টিনা সিগন্যাল কর্পসে কাজ করেন। ২৩ বছরের স্নাইপার ভিটালি অরলিচের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। বিয়ের অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী লম্বা সাদা জামা পরেন তিনি। সাদা পোশাকের ওপর লাল রঙের এমব্রয়ডারি করা ছিল।
ক্রিস্টিনার ভাষায়, ‘আমার বিশ্বাস, এখানে বিষয়টি হচ্ছে একটি নতুন পরিবার তৈরি। এটা কোথায় বা কীভাবে হচ্ছে সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়।’
দুই বরের উভয়েই সামরিক বাহিনীর ট্রাউজার পরিহিত ছিলেন। একজন সামরিক টিশার্ট পরলেও অন্যজন নিজের পছন্দের টিশার্ট পরেন।
বিয়ের ছুটির পর উভয় দম্পতি ফের একই দিনে যুদ্ধক্ষেত্রে ফেরার কথা রয়েছে।
ব্রিগেডের কমান্ডার ওলেকসান্দর ওখরিমেনকো সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি তাদের সেভাবে মুক্ত দিন দিতে পারছি না। একমাত্র বিষয় হলো, তারা ফ্রন্টলাইনে থাকবে না, তারা পেছনে থাকবে।’
রবিবার বিয়ের অনুষ্ঠানে কোনও দম্পতির পরিবার উপস্থিত ছিল না। তবে বিয়ের ব্যাপারে তাদের স্বজনরা অবগত ছিল।
ক্রিস্টিনা জানান, তার স্বামী অনলাইনে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। জামাতাকে তিনি ছেলে হিসেবে সম্বোধন করেছেন।
দুই তরুণ দম্পতির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয় স্থানীয় একটি রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে, যেটি যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
আনুষ্ঠানিকতা
ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন সামরিক বাহিনীর দুই নবদম্পতি। একতার প্রতীক হিসেবে সূচিকর্মের তোয়ালেতেও একসঙ্গে পা রেখেছেন তারা। অর্থোডক্স খ্রিস্টান রীতি অনুযায়ী আশীর্বাদও পেয়েছেন। পবিত্র পানি ঝাঁকানো হয়েছে এবং তাদের মাথায় মুকুট ছিল।
খাকি ক্যাসকের পুরোহিত ইউরি জেডেবস্কি বলেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ আগ্রাসন শুরুর পর তাদের ব্রিগেডে এটি প্রথম বিয়ে।
তিনি বলেন, এখন যুদ্ধকালীন সময়। ফলে এই সময়ে এখানে বড় ধরনের কোনও উৎসবের সুযোগ নেই।
পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ওখ্রিমেঙ্কো সামরিক আইনে বিবাহ সনদ দেওয়ার অধিকার রাখেন। তিনি বলেন, বিয়ের ভেন্যুটি প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তার কারণে বেছে নেওয়া হয়েছে। সূত্র: চ্যানেল নিউজ এশিয়া।