মাতাল চালকদের জব্দকৃত গাড়ি ইউক্রেন পাঠাচ্ছে যে দেশ

রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে বিশ্বের একাধিক দেশ। কেউ অস্ত্র পাঠাচ্ছে, কেউ পাঠাচ্ছে অর্থ-ত্রাণ-চিকিৎসা সরঞ্জাম। তবে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপের দেশ লাটভিয়া। মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য যেসব যানবাহন আটক করা হয়েছে সেগুলো তারা ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও হাসপাতালে পাঠাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, বুধবার তুষারধাকা সড়কে একটি ট্রেইলারে করে সাতটি প্রাইভেটকার ইউক্রেনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

১৯ লাখ মানুষের বাল্টিক দেশটিতে মাত্র দুই মাসে দুইশ’ প্রাইভেটকার মাতাল চালকদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে। দেশটির আইন অনুসারে, যাদের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০ দশমিক ১৫ শতাংশ, তাদের গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই।  

লাটভিয়া সরকার টুইটার কনভয় নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)-কে গাড়িগুলো ইউক্রেনে পাঠানোর দায়িত্ব দিয়েছে। এর প্রতিষ্ঠাতা রেইনিস পজনাকস বলেন, যে সংখ্যায় মাতাল চালকরা আমাদের আশেপাশে গাড়ি চালাচ্ছে তা শিউরে ওঠার মতো। সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে জব্দকৃত ২৪টি গাড়িটি তাদেরকে সরবরাহ করা হবে ইউক্রেনে আমাদের সংস্থার স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য।

পজনাকস আরও বলেন, মাতাল অবস্থায় এত গাড়ি চালানো কেউ প্রত্যাশা করে না। মানুষ যে হারে মাতাল হচ্ছে সে তুলনায় এসব গাড়ি বিক্রি করা সম্ভব না আমাদের পক্ষে।

জব্দকৃত একটি গাড়ির মালিক গাড়িতে রাশিয়ার পতাকা সাঁটিয়ে দিয়েছেন, এটি দেখতে পেয়ে তিনি হেসে ওঠেন।

গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ আক্রমণের পর টুইটার কনভয় ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ যানবাহন ইউক্রেনে পাঠিয়েছে। টুইটারে গাড়ি ক্রয়, মেরামত ও বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনতে আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি ২১ লাখ ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে।

লাটভিয়ার অর্থমন্ত্রী আরভিলস আসেরাডেন্স বলেছেন, নিলামে কেনা গাড়িগুলো ইউক্রেনে পাঠানোতে এনজিওটি সাফল্যে সরকার অনুপ্রাণিত হয়েছে। ফলে আমরা তাদেরকে জব্দকৃত গাড়িগুলো দিয়েছি। আমরা ইউক্রেনীয়দের সহযোগিতায় যেকোনও কিছু করতে প্রস্তুত আছি।

দেশটির পুলিশের তথ্য অনুসারে, গত বছর লাটভিয়ার সড়কে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি মদ পান করে গাড়ি চালিয়েছেন ৪ হাজার ৩০০ চালক। ২০০২ সালে এসব গাড়ি প্রায় হাজার খানেক দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে।