বাখমুতের চারপাশে ‘বিদ্যুৎ গতিতে’ অগ্রসরের দাবি ইউক্রেনের

পূর্ব ইউক্রেনের বাখমুতের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কয়েকদিনের মাথায় শহরটির চারপাশে ফের বিদ্যুৎ গতিতে অগ্রসর হচ্ছে কিয়েভের যোদ্ধারা। শহরটিকে ঘিরে লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন ইউক্রেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হানা মালিয়ার। তবে এটি রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বহুল প্রতীক্ষিত ‘পাল্টা আক্রমণ’ কিনা, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

কয়েক সপ্তাহ আগেই রাশিয়ার সশস্ত্র ভাড়াটে ওয়াগনার ও রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বাখমুত। প্রায় ৯ মাসের রক্তপাতের মধ্যে দিয়ে শহরটির নিয়ন্ত্রণ হারায় ইউক্রেন। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মাথায় ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে বাখমুতের আশপাশ। পশ্চিমাদের পাঠানো ভারী অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে জেলেনস্কির সেনারা।

তবে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সোমবার পূর্ব ডনেস্ক অঞ্চলে নতুন হামলা প্রতিহত করেছে। শত শত কিয়েভপন্থি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে রুশ বাহিনী। দক্ষিণ ইউক্রেনীয় অঞ্চল ডনেস্কে সোমবার অন্তত ৫টি ইউক্রেনীয় হামলা প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছে মস্কো।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে সোমবার হান্না মালিয়ার দাবি করেছেন, 'কঠোর প্রতিরোধ ও শত্রুরা তাদের অবস্থান ধরে রাখার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, আমাদের সামরিক বাহিনী অগ্রসর হয়েছে।'

বাখমুতে অগ্রসরে সেনাদের ধন্যবাদ জানান ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ’শত্রুরা জানে ইউক্রেনীয় বাহিনী জিতবে।’

রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া শহরটির কিছু অংশ ইউক্রেনীয় সেনারা পুনরুদ্ধার করেছে বলে স্বীকার করেছেন ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন। তিনি বলেন, ‘বাখমুতের বেরখোভা পুনরুদ্ধার করেছে তারা। ফলে এলাকাটি থেকে অনেকেটা লুকিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে রুশ সেনারা।’

ইউক্রেনীয় সেনাদের অগ্রসর রুখতে মস্কো যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে রুশ সেনারা প্রাণ হারাবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার ভোরের দিকে রাজধানী কিয়েভে কয়েক ঘণ্টা সক্রিয় ছিল বিমান হামলার সাইরেন। রাজধানীতে রাশিয়ার ছোড়া ২০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের দাবি করেছে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বিভাগ।

সূত্র: বিবিসি