অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেই শুক্রবার (১ মার্চ) পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের আগে দেশটির ভোটারদেরকে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে এসে নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধের কারণে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান হতাশার মধ্যে এই নির্বাচনকে সরকারের বৈধতার পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনি ভোট দেওয়াকে একটি ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনিই ইরানে প্রথম ভোট দেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামিনি বলেছেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব ভোট দিন…আজ ইরানের বন্ধু ও অমঙ্গল কামনাকারীদের চোখ ফলাফলের দিকে। বন্ধুদের খুশি করুন এবং শত্রুদের হতাশ করুন।’
২০২২ সালের সরকার বিরোধী বিক্ষোভের পর দেশটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন এটি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ২০২২ সালে সবচেয়ে খারাপ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে ইরান। ২০২২ সালের ‘অনুপযুক্ত’ হিজাব পরার দায়ে দেশটিতে নীতিপুলিশের হেফাজতে এক তরুণীর মৃত্যু হয়। এর জেরে দেশটিতে ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছিল যা সরকার বিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।
২০২২-২৩ সালের সরকার বিরোধী বিক্ষোভের পর এবারের নির্বাচনকে ইরানের নেতৃত্বের জন্য বৈধতা এবং জাতীয় সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের শাসক হিসেবে ক্ষমতাসীনদের বৈধতার জন্য একটি রেকর্ড মাত্রার ভোট প্রয়োজন। তবে অস্থিরতার এ সময়কালে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে উদাসীনতা তুঙ্গে রয়েছে।
সরকারী সমীক্ষায় দেখা গেছে, এবারের পার্লামেন্টের নির্বাচনে ৪১ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করবে। এই অনুমান সঠিক হলে বিগত ১২টি ভোটের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটদানের রেকর্ড গড়বে এবারের নির্বাচন। এর আগে, ২০২২ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটদানের হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪২.৫ শতাংশ ছিল। যা ২০১৬ সালে ছিল প্রায় ৬২ শতাংশ।
এবারের নির্বাচনে দেশটিতে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ১২ লাখের বেশি। আর পার্লামেন্টের ২৯০টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী। এর মধ্যে ছিল পাঁচটি ছিল দেশটির ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসন।