ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করবেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। সোমবার (২৫ নভেম্বর) ন্যাটো মহাসচিবের তুরস্ক সফরের কথা রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে বৈঠক করবেন এরদোয়ান। একজন তুর্কি কর্মকর্তার বরাতে রবিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
মার্কিন ও ব্রিটিশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার গভীরে কিয়েভের হামলার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে একটি নতুন হাইপারসনিক মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছিল মস্কো। এই হামলা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেশী ইউক্রেনের ওপর মস্কোর চালানো সর্বাত্মক আক্রমণের বৃদ্ধিকেই চিহ্নিত করে।
তখন রুশ আক্রমণের নিন্দা করেছিল ন্যাটো সদস্য দেশ তুরস্ক। তারা বলেছিল, ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে দেশটি এবং তারা কিয়েভকে সামরিক সহায়তা দিয়েছে।
তবে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন করলেও রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে তুরস্ক। মস্কো ও কিয়েভ উভয়ের সঙ্গে কৃষ্ণ সাগরেও সীমানা রয়েছে দেশটির। এগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা, শক্তি ও পর্যটন সম্পর্ক রয়েছে আঙ্কারার।
বুধবার এরদোয়ানের কার্যালয়ের একটি বিবৃতিতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলা হয়, এটি সংঘাতকে আরও উস্কে দেবে।
মস্কো বলেছে, ইউক্রেনকে রাশিয়ার গভীরে পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সবুজ সংকেত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। মঙ্গলবার মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতির পরিবর্তনগুলোর অনুমোদন দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যা প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ায় আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে আত্মরক্ষায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ন্যাটো মহাসচিব ও এরদোয়ানের মধ্যকার অনুষ্ঠিতব্য সোমবারের আলোচনায়, ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্রয়ে বাধা অপসারণ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের যৌথ লড়াই নিয়েও আলোচনা করবেন তারা।