বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী বিতর্ক সংগঠন অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ইসরায়েলকে ‘গণহত্যার জন্য দায়ী বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার একটি বিতর্কে এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ২৭৮টি ও বিপক্ষে ছিল মাত্র ৫৯টি। এই বিতর্কটি ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। বক্তৃতাগুলো ছিল আবেগময়, এবং বক্তারা একাধিকবার শ্রোতাদের বাধা ও তর্কের সম্মুখীন হন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
১৮২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত অক্সফোর্ড ইউনিয়ন বরাবরই বিতর্কের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে। এই বিতর্ক ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রস্তাবটি ছিল: এই সংসদ বিশ্বাস করে, ইসরায়েল একটি বর্ণবাদী রাষ্ট্র যা গণহত্যার জন্য দায়ী। এই বিতর্কে পক্ষে বক্তব্য দেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লেখক সুসান আবুলহাওয়া, ফিলিস্তিনি কবি মোহাম্মদ এল কুর্দ এবং ইসরায়েলি বিরোধী লেখক মিকো পেলেড। বিপক্ষে বক্তব্য দেন ইউকে লইয়ার্স ফর ইসরায়েল-এর আইনি পরিচালক নাতাশা হাউসডরফ, আরব-ইসরায়েলি অ্যাক্টিভিস্ট ইয়োসেফ হাদ্দাদ এবং ইসরায়েলের শিন বেট গোয়েন্দা সংস্থার জন্য ১০ বছর কাজ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে এক হামাস নেতার ছেলে মোসাব হাসান ইউসুফ।
বিপক্ষের বক্তা মোসাব হাসান ইউসুফ বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, আপনারা যদি আগেই জানতেন, তাহলে কি হামাসের নেতৃত্বাধীন ৭ অক্টোবরের আক্রমণকে নিন্দা করতেন? তার প্রশ্নের উত্তরে অল্পসংখ্যক হাত তোলেন। পরে ইউসুফ উপস্থিতদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করেন, যা উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
বিপক্ষের আরেক বক্তা ইয়োসেফ হাদ্দাদ বিতর্কের সময় পোস্টার ও বিভিন্ন প্রপস ব্যবহার করেন। তিনি এমন একটি টি-শার্ট পরিধান করেন যেখানে নিহত হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহের ছবি দিয়ে লেখা ছিল: তোমার সন্ত্রাসী নায়ক মৃত! আমরা এটি করেছি।
এই সময় একজন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী, যিনি গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন, ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত অনুভব করে হাদ্দাদকে চেম্বার থেকে সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। উত্তেজনা আরও বাড়লে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হাদ্দাদকে সতর্ক করেন।
প্রস্তাবের পক্ষে বক্তারা ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গাজার বেসামরিক মৃত্যুর ওপর জোর দেন। ফিলিস্তিনি কবি মোহাম্মদ এল কুর্দ তার বক্তব্যের পরে চেম্বার ছেড়ে চলে যান এবং পরে বিপক্ষকে ‘গণহত্যা অস্বীকারকারী’ বলে অভিহিত করেন।
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ওসমান-মোয়াফি তার বক্তব্যে ১৯ বছর বয়সী শাবান আল-দালৌমের কাহিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অক্টোবর মাসে আল-আকসা হাসপাতালে একটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় দালৌম জীবন্ত পুড়ে যান। মোয়াফি এই ঘটনাকে গাজার ওপর ইসরায়েলের চলমান ‘হলোকাস্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কটি সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাব না ফেললেও এটি ইসরায়েলের কার্যক্রম নিয়ে বিশ্বব্যাপী জনমতের পরিবর্তনের দিকটি তুলে ধরে, বিশেষ করে অ্যাকাডেমিক পরিসরে।
ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধ ৪২৩ দিন অতিক্রম করেছে। এ পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৪২৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৫ হাজার ২৫০ জনের বেশি আহত হয়েছে।