ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার রিয়াজান তেল শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তিনটি শিল্প সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, হামলায় শোধনাগারের প্রধান ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট সিডিইউ-৬-এ আগুন ধরে যায় এবং কারখানাটিতে তেল প্রক্রিয়াকরণ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী সোমবার জানিয়েছে, তাদের কিছু ড্রোন রিয়াজান তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে এবং এর আশেপাশে কমপক্ষে পাঁচটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। কারখানাটির মালিক রসনেফট মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
রিয়াজান অঞ্চলের গভর্নর পাভেল মালকভ টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে জানান, ধ্বংসপ্রাপ্ত ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অঞ্চলের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগে। মালকভ বিস্তারিত কিছু বলেননি।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা এক সূত্র জানায়, কারখানাটি কয়েক দিনের মধ্যে আংশিকভাবে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারে। সিডিইউ-৬ ইউনিটের ক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল প্রতি দিন (বিপিডি), যা রিয়াজানের মোট শোধন ক্ষমতার প্রায় ৪৮ শতাংশ।
সূত্রগুলো জানায়, সিডিইউ-৬ মেরামতের সময় শোধনাগারটি সিডিইউ-৪ এবং সিডিইউ-৩ প্রাইম ডিস্টিলেশন ইউনিট চালু করতে পারে।
সূত্র ও রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, সিডিইউ-৪ এবং সিডিইউ-৩-এর মোট শোধন ক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার বিপিডি, যা কারখানাটির মোট শোধন ক্ষমতার প্রায় ৪১ শতাংশ।
২৪ জানুয়ারি ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর ১৮ দিন বন্ধ থাকার পর ১১ ফেব্রুয়ারি রিয়াজান শোধনাগার আংশিকভাবে তেল প্রক্রিয়াকরণ এবং রেলওয়ে ট্যাঙ্কে মোটর জ্বালানি লোডিং পুনরায় শুরু করে।
২০২৪ সালে রিয়াজান শোধনাগার ১৩.১ মিলিয়ন মেট্রিক টন (প্রতিদিন ২ লাখ ৬২ হাজার ব্যারেল) তেল প্রক্রিয়াকরণ করেছে, যা রাশিয়ার মোট শোধন ক্ষমতার প্রায় ৫ শতাংশ।
সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি ২.৩ মিলিয়ন টন পেট্রোল, ৩.৪ মিলিয়ন টন ডিজেল, ৪.২ মিলিয়ন টন ফুয়েল অয়েল এবং ১ মিলিয়ন টন জেট ফুয়েল উৎপাদন করেছে।