ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চতুর্থ বছরে পদার্পণের আগে সামরিক ও নিরাপত্তা প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই প্রক্রিয়ায় সোমবার ইউক্রেনের প্রভাবশালী নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ-এর প্রধান ভাসিল মালিউককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মালিউকের পরিবর্তে এসবিইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে মেজর জেনারেল ইয়েভহেনি খমারাকে নিয়োগ দিয়েছেন জেলেনস্কি। খমারা ২০১১ সাল থেকে অভিজাত আলফা কমব্যাট ইউনিটে কাজ করছেন এবং ২০২৩ সাল থেকে এর নেতৃত্বে ছিলেন।
ভাসিল মালিউক ২০২২ সাল থেকে এসবিইউ পরিচালনা করে আসছিলেন। তার অধীনে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে বেশ কিছু দুঃসাহসিক অভিযান চালায়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত অপারেশন ‘স্পাইডারওয়েব’। এই অভিযানে পণ্যবাহী ট্রাকে ছোট ড্রোন লুকিয়ে রাশিয়ার গভীরে থাকা বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন কৌশলগত বোমারু বিমান ধ্বংস করা হয়।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, তিনি মালিউককে এখন থেকে সরাসরি কমব্যাট অপারেশনে মনোনিবেশ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, দখলদার ও রুশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের আরও বেশি অভিযান এবং শত্রুকে নির্মূলে আরও জোরালো ফলাফল প্রয়োজন।
ইউক্রেনের এই রদবদল কেবল গোয়েন্দা সংস্থাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গত সপ্তাহে সামরিক গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভকে প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি দুর্নীতির অভিযোগে অপসারিত আন্দ্রি ইয়ারমাকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এছাড়া নতুন প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি মন্ত্রীর নামও দ্রুত ঘোষণা করা হবে। জেলেনস্কির পছন্দের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে এখনও পার্লামেন্টের অনুমোদন পেতে হবে।
সূত্র জানিয়েছে, মালিউককে ছোট আকারের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মালিউককে সরিয়ে দেওয়ায় ইউক্রেনের ভেতরেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। ড্রোন বাহিনীর প্রধান রবার্ট ব্রোভদি বলেছেন, মালিউককে সরিয়ে দেওয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়া একটি শক্তিশালী সংস্থাকে দুর্বল করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।
প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা বিষয়ক কমিটির সংসদ সদস্য সলোমিয়া বব্রোভস্কা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মালিউকের অপসারণ প্রয়োজন ছিল বলে আমি মনে করি না। মালিউকের নেতৃত্বে এসবিইউ সফলভাবে তার দায়িত্ব পালন করছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডিক্রির মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়োগ দিয়ে জেলেনস্কি কার্যত পার্লামেন্টকে এড়িয়ে গেছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল রাশিয়ার দখলে রয়েছে। ইউক্রেন বলছে, তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এই যুদ্ধের কোনও শেষ দেখা যাচ্ছে না।