গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় ট্রাম্প, দাভোসে চাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের নতুন উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের দাভোসে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে এই ইস্যু ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

দাভোসে পৌঁছে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, এই বিষয়টি নিয়ে এমন একটি সমাধানে আসতে হবে, যাতে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়পক্ষই সন্তুষ্ট থাকে। সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, পরবর্তীতে জানানো হবে।

ট্রাম্পকে বহণকারী বিমানে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় ট্রাম্পের দাভোসে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়। সেখানে তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রাশিয়া ও চীনের প্রভাব মোকাবিলায় মেরু অঞ্চলে গ্রিনল্যান্ডকে একটি কৌশলগত নিরাপত্তা ঘাঁটি হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দাভোসে দেওয়া মূল বক্তব্যে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সাফল্য তুলে ধরবেন। পাশাপাশি আবাসন খরচ কমাতে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। এর মধ্যে অবসরকালীন সঞ্চয় থেকে বাড়ির অগ্রিম পরিশোধ করার সুযোগ রাখার বিষয়টিও রয়েছে।

এই সফরে ট্রাম্প সুইজারল্যান্ড, পোল্যান্ড ও মিসরের নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন। পরে তিনি গাজা পুনর্গঠন নিয়ে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই উদ্যোগ জাতিসংঘের ভূমিকার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বাড়ানোর রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকেও এসেছে। ১৯৫৯ সালে আলাস্কা ও হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হওয়ার পর এটি হবে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ। ন্যাটো ও ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই পদক্ষেপ জোটের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।