ব্রিটিশ-বাংলাদেশি যুবক হত্যা: মুক্ত ৩ সন্দেহভাজন, ই-স্কুটার আরোহীকে খুঁজছে পুলিশ

যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ারের ব্ল্যাচলেতে ২৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি যুবক মোহাম্মদ তানভীরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া প্রাথমিক তিন সন্দেহভাজনকেই ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনে একজন ই-স্কুটার আরোহীকে খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

নিহত তানভীরুল ইসলাম যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাগরিক, যার পৈতৃক ভিটা বাংলাদেশের সিলেটে। গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে ব্ল্যাচলের ব্রুকল্যান্ডস রোডে ছুরিকাঘাতের শিকার হন তিনি। খবর পেয়ে জরুরি সেবা দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জীবনরক্ষার চেষ্টা চালান, তবে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরে ১ আগস্ট সম্পন্ন হওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিশ্চিত করে যে, বুকে মারাত্মক ছুরিকাঘাতের কারণেই তানভীরুলের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মিল্টন কিন্স থেকে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর এবং আইলেসবুরি থেকে ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল টেমস ভ্যালি পুলিশ। তাদের পাশাপাশি ২৫ বছর বয়সী আরও এক যুবককেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে টানা ৪৮ ঘণ্টার নিবিড় তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও জবানবন্দি পর্যালোচনার পর পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনায় তাদের কোনও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। ফলে আটক সবাইকে কোনও ধরনের অভিযোগ ছাড়াই নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সন্দেহভাজনের তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।

তদন্তের গতিপথ পরিবর্তন করে মেজর ক্রাইম ইউনিটের গোয়েন্দারা এখন ঘটনার রাতে দেখা যাওয়া এক ই-স্কুটার আরোহীর সন্ধান করছেন। ৩০ জুলাই রাতে ওয়াটার ইটন রোড এবং মধ্য ব্ল্যাচলে এলাকায় কালো পোশাক পরিহিত ওই আরোহীকে চলাচল করতে দেখা যায়।

মেজর ক্রাইম ইউনিটের ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট জন ক্যাপস সাংবাদিকদের জানান, তানভীরুলের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি তারা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছেন। তদন্তে সিসিটিভি এবং ডোরবেল ক্যামেরার বিপুল ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ওই রাতে ১১টা থেকে ১১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ওয়াটার ইটন রোড কিংবা আশেপাশের এলাকায় কোনও কালো পোশাক পরা ই-স্কুটার আরোহী বা সন্দেহজনক চালচলন কারও চোখে পড়ে থাকলে, অবিলম্বে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মিল্টন কিন্সের লোকাল পুলিশিং কমান্ডার চিফ সুপারিনটেনডেন্ট এমা বেইলি জানান, এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ দূর করতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।