এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করতে উত্তেজনায় ফুটছে স্পেন। মেঘের আনাগোনা ও ভালো অবস্থানের খোঁজে অনলাইন ফোরামগুলো যেমন জমে উঠেছে, তেমনি স্পেনের উত্তর-পশ্চিমের আ করুনিয়া থেকে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ মায়োর্কা পর্যন্ত বিস্তৃত ২০০ কিলোমিটার ছায়াপথে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক দর্শনার্থীরা।
অফিসিয়াল হিসাব অনুযায়ী, এই বিরল দৃশ্য দেখতে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ এই ছায়াপথে একত্রিত হতে পারেন। স্পেনের পাশাপাশি পর্তুগালের একটি ছোট অংশ এবং গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডে এটি দেখা যাবে। আবহাওয়ার দিক থেকে ভালো অবস্থায় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য পুরো বিশ্বে স্পেনই সেরা স্থান বলে জানান মাদ্রিদ প্ল্যানেটোরিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী সিজার গঞ্জালেস। কেবল এই মহাজাগতিক ঘটনাটি দেখতে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার পর্যটক স্পেনে এসেছেন। এর মধ্যে ৩ লাখেরও বেশি মানুষ গ্রামীণ অঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলোতে ভিড় করছেন, যেখানে মাত্র দুই মিনিটেরও কম সময় চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলবে।
কানাডার হ্যালিফ্যাক্স থেকে আগত এঞ্জেলা জোন্স রিয়েকস্টস তার ২১ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে বার্গোসের দিকে রওনা হওয়ার সময় জানান, দুবছর আগে প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন। এটি শেষ হওয়ার পরই আমি নিজেকে বলেছিলাম, আমাকে এটি আবার দেখতে হবে।
এদিকে সাধারণ মানুষের উৎসাহের কারণে স্পেনের বেশিরভাগ চশমার দোকান ও ফার্মেসিতে সোলার এক্লিপ্স গ্লাস বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। স্প্যানিশ এয়ারলাইন আইবেরিয়া ১০,০০০ মিটার ওপর থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটের লাইভ ছবি শেয়ারের উদ্যোগ নিয়েছে এবং মাদ্রিদের প্রাদো মিউজিয়াম এআই দিয়ে তাদের চিত্রকর্মগুলোর আলো পরিবর্তনের ভিডিও তৈরি করেছে। ১৫ লাখ অতিরিক্ত গাড়ির যাতায়াত এবং ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও দাবানলের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে প্রায় ২৪ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ফ্রান্সের কোত দ্য আজুর থেকে ৮ বছর বয়সী যমজ সন্তানদের নিয়ে আসা স্তেফানি রাকো জানান, ১৯৯৯ সালে প্যারিসের উত্তরে দেখা চমৎকার সূর্যগ্রহণের স্মৃতি সন্তানদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেই তিনি সালউ এসেছেন। প্রয়োজনে কয়েক ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে দেশের ভেতরের দিকে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। যদি এবার মেঘের কারণে মিস হয়, তবে আগামী বছর মিসরে গিয়ে দেখার পরিকল্পনাও তিনি করে রেখেছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান