ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে আবাসিক এলাকার কাছে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর একটি অস্ত্রাগারে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৭ জন নিহত এবং প্রায় ৪০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতের এই হামলায় অস্ত্রাগারে থাকা গোলা, মাইন ও ড্রোন বিস্ফোরিত হয়ে পাশের একটি বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী নিবাসসহ আশপাশের বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বুচা জেলার মিলা গ্রামে সংঘটিত এই হামলায় চার শিশুসহ ৪২ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি লোকালয়ের পাশে বিস্ফোরক রাখার এই সিদ্ধান্তকে ‘একদমই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের ‘ভয়াবহ অবহেলার’ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় এবং ডিফেন্স ডাইরেক্টিভ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এদিকে গত জুলাই মাসে বিশনেভে এলাকার একটি অস্ত্রাগারে একই ধরনের হামলায় ৯ জন নিহত ও ২৮০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা না নেওয়ায় ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেটস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে টেলিগ্রামে লিখেছেন, সর্বাত্মক আক্রমণের পঞ্চম বছরে এসে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা অপরাধমূলক অবহেলা। দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মিলা গ্রামের অস্ত্রাগারটি নিশানা করেছিল, যেখানে দূরপাল্লার ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংরক্ষিত ছিল।
কিয়েভ অঞ্চল ছাড়াও ওডেসাসহ বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলায় আরও কয়েকজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী ২৩৩টি রুশ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। পাল্টা হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে ও তাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে আকাশপথে হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ এবং ওজোন-এর একাধিক লজিস্টিক সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বেলগোরোদ ও রোস্তভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় হামলায় ২ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিবিসি