রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে কর রাজস্ব বাড়াতে অনলাইন পর্নোগ্রাফি ও প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট তৈরি বৈধ করার উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্নোগ্রাফি তৈরি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অপরাধমূলক শাস্তি শিথিল করতে দেশটির সংসদে একটি বিল নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইউক্রেনে প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট তৈরি, বিতরণ ও রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং অপরাধের সাজা হিসেবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে এটাকে ঘিরে একটি বিশাল শিল্প গড়ে উঠেছে। এতে জড়িত রয়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যরা।
সম্প্রতি ইউক্রেনের কর কর্তৃপক্ষ এসব নির্মাতার কাছে কর দাবি করায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ আয় গোপন করলে কর ফাঁকির সাজা এবং আয় দেখালে অবৈধ কাজে জড়িত থাকার দায়ে শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ইউক্রেনীয় পার্লামেন্টের অর্থ কমিটির প্রধান ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াক বিষয়টিকে একটি ‘দুঃখজনক ও হাস্যকর পরিস্থিতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২০২৩ সালে ওনলিফ্যান্স প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় ৭ হাজার ৯০০ ইউক্রেনীয় নাগরিক ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন। কর কর্তৃপক্ষের নোটিশের পর মডেলরা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন, যার ফলে কর অন্য দেশে চলে যাচ্ছে।
সংসদে উপস্থাপিত বিলটি প্রথম দফায় পাস হয়ে এখন দ্বিতীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কর আদায় সম্ভব, যা দিয়ে অন্তত ৩০ হাজার ড্রোন কিনতে পারবে ইউক্রেন। সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও বিষয়টি পর্যালোচনার কথা জানিয়েছেন।
ওনলিফ্যান্সের জনপ্রিয় মডেল সভিতলানা দোর্নিকোভা বলেন, আমাকে অপরাধী হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বদলে ৯ লাখ ডলার কর দেওয়ার জন্য সরকারের উচিত আমাকে ধন্যবাদ জানানো। এই অর্থ দিয়ে ১০০টি সামরিক ট্রাক কিংবা ২ হাজার ড্রোন কেনা সম্ভব।