রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের প্রকাশনা শিল্প ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মের দুই মাসে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি বই ধ্বংস হয়েছে, যা দেশটির বার্ষিক মুদ্রিত বইয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এতে ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ১ আগস্ট রাশিয়ার ড্রোন হামলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান রানকের প্রধান গুদাম পুড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ভিক্টর ক্রুগলভ বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আগুন জ্বলতে থাকে। এতে ৮০ লাখ বই পুড়ে যায়, যার মধ্যে ছিল ৬ লাখ ২০ হাজার পাঠ্যবই। এসব বই ইউক্রেনের প্রায় সব স্কুলে সরবরাহ করত রানক।
কিয়েভে বৃহত্তম বইয়ের বাজারে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এক ব্যক্তি পুড়ে যাওয়া বইগুলো খুঁজছেন। ছবি: এপি
রুশ হামলায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রানকসহ অন্তত ৪০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও বেশ কয়েকটি বইয়ের দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নতুন লেখকদের বই প্রকাশেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রকাশকদের নতুন লেখকদের তুলনায় বেস্টসেলার ও প্রতিষ্ঠিত অনুবাদ সাহিত্য প্রকাশে বেশি আগ্রহী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ইউক্রেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী তেতিয়ানা বেরেঝনা বলেন, এটি দেশটির সংস্কৃতি ধ্বংসের রাশিয়ার ‘পদ্ধতিগত’ প্রচেষ্টার অংশ। তার মতে, ইউক্রেনীয় ভাষা ও সাহিত্য দেশটির পরিচয় ও প্রতিরোধক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত।
প্রকাশনা শিল্পকে সহায়তায় সরকার স্কুলের লাইব্রেরির জন্য ইউক্রেনীয় বই কেনা, ছোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মুদ্রণ ব্যয়ে অনুদান, বইয়ের দোকানের ভাড়া সহায়তা এবং বই ছাপার জন্য যুদ্ধঝুঁকি বীমা চালুর পরিকল্পনা করছে।
ধ্বংসপ্রাপ্ত ছাপাখানায় পড়ে আছে পুড়ে যাওয়া চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি পাঠ্যবইয়ের পৃষ্ঠা। ছবি: এপি
তবে প্রকাশনা শিল্পের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। খারকিভের কনভি প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠানে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক মাস পরও ধ্বংসপ্রাপ্ত ছাপাখানায় পড়ে আছে পুড়ে যাওয়া চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি পাঠ্যবইয়ের পৃষ্ঠা। হামলার আগে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে লাখ লাখ বই ছাপা হতো।
ক্রুগলভ বলেন, রানকের কিছু বিকল্প গুদাম রয়েছে এবং তাদের সব ফাইল ক্লাউডে সংরক্ষিত। ফলে বই পুনর্মুদ্রণ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত কৌশলগত সহায়তা না দেওয়া হলে ইউক্রেনের প্রকাশনা শিল্প পুরোপুরি ধসে পড়তে পারে।