রাশিয়ার হামলা বৃদ্ধির মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানাতে রবিবার কিয়েভ সফরে গেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তার পৌঁছানোর সময় ইউক্রেনের রাজধানীতে বিমান হামলার সাইরেন ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
জার্মান সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরে মের্ৎস একাধিক পদক্ষেপের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করবেন। এর মধ্যে রয়েছে ১১৩ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা এবং জ্বালানি খাতের মেরামতে ৩৫ কোটি ইউরো। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ড্রোন যৌথভাবে উৎপাদনের একটি চুক্তিও চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
মের্ৎস বলেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের আমাদের সব ধরনের সমর্থন প্রয়োজন, তাই আজ আমি কিয়েভে এসেছি। তিনি বলেন, রুশ বাহিনী শহর, আবাসিক ভবন ও হিটিং প্ল্যান্টে বোমা হামলা চালাচ্ছে। তার ভাষ্য, রাশিয়াকে থামানো না গেলে দেরিতে হোক বা আগে, তাদের যন্ত্র আমাদের বিরুদ্ধেও তাক হবে।
মের্ৎস আরও বলেন, আমি আজ প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে বলবো, আপনি আমাদের সহায়তার ওপর ভরসা করতে পারেন। রবিবার সকালে কিয়েভে চারবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজে। পুরো শহরজুড়ে বিস্ফোরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দ শোনা যায়।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো টেলিগ্রামে জানান, রুশ হামলায় নিপ্রো নদীর ওপর নির্মিত নর্দার্ন ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সেতু সংলগ্ন পথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই হামলায় এলাকার গরম পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। গত সপ্তাহ থেকে রাশিয়া কিয়েভের সেতুগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। রাজধানীর দুই তীরের সংযোগ এবং মধ্য ও পূর্ব ইউক্রেনের মধ্যকার সরবরাহ পথ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে।
জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে রয়েছেন অর্থনীতিমন্ত্রী ক্যাথেরিনা রাইশে এবং একটি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে সিমেন্স এনার্জি, হেনসোল্ট, ডিল ডিফেন্স, কোয়ান্টাম সিস্টেমসসহ বিভিন্ন কোম্পানির নির্বাহীরা আছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অংশীদারদের চাওয়া সংস্কারে অগ্রগতির জন্য, বিশেষ করে দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে, মের্ৎস ইউক্রেন সরকারকে চাপ দেবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
গত বুধবার মের্ৎসের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার উৎপাদনে জার্মানির সঙ্গে শিগগিরই চুক্তি চূড়ান্ত করবে ইউক্রেন। চুক্তির মূল লক্ষ্য হবে জেট-চালিত আক্রমণকারী ড্রোন প্রতিরোধে সক্ষম ড্রোনের দ্রুত উৎপাদন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি কোয়ান্টাম এ ধরনের ড্রোনের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। গ্রীষ্ম থেকে রাশিয়া প্রতিদিন কয়েক ডজন উচ্চগতির জেট-চালিত হামলাকারী ড্রোন ব্যবহার করে বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার মের্ৎস বলেছিলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হাইব্রিড হামলায় জার্মানি ভীত হবে না। শনিবার রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় হামলার জবাবে মস্কো ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে পদ্ধতিগতভাবে আঘাত চালিয়ে যাবে। মন্ত্রণালয় বিদেশি নাগরিক ও কূটনৈতিক কর্মীদের ইউক্রেনে অবস্থান বা সেখানে ভ্রমণ না করার জন্য সতর্ক করেছে।
শনিবার রয়টার্সকে জেলেনস্কি বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা বাড়ানোর মস্কোর ‘নতুন মতবাদের’ জবাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী হামলা আরও জোরদার করবে। তার দাবি, কিয়েভ ও অন্যান্য শহরের বাসিন্দাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করাই এই নতুন মতবাদের লক্ষ্য।