রান্নাঘরের মেঝে ঝাড়ু দেওয়ার সময়ই নোবেল জয়ের খবর পান অ্যান কার্সন

আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিকে নিজের বাড়িতে রান্নাঘরের মেঝে ঝাড়ু দিচ্ছিলেন অ্যান কার্সন। সকালে ফোনে তিনি জানতে পারেন, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। বৃহস্পতিবার সুইডিশ একাডেমি কার্সনকে এ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেয়। সমকালীন সাহিত্যের সীমানা নতুন করে গড়ার জন্য তার সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের প্রশংসা করেছে নোবেল একাডেমি।

ঘোষণার ঠিক পরপর নোবেল প্রাইজ কর্তৃপক্ষকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্সন জানান, তিনি ফোন এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। স্বামী না থাকলে তিনি হয়তো খবরটি পেতেনই না।

কার্সন বলেন, আমি খেয়াল করলাম মেঝে ঝাড়ু দেওয়া দরকার, তাই সেটাই করতে গেলাম। তারপর একের পর এক ফোন আসতে থাকল, আর আমি সেগুলো বন্ধ করে দিচ্ছিলাম, কারণ ফোন বাজলে আমি সব সময়ই বন্ধ করে দিই। এ সময় তার স্বামী কল রিসিভ করে বলেন, আমি তার স্বামী, আমিই তাকে আসলে ফোন করে জানাতে বাধ্য করেছি।

কার্সন যোগ করেন, হ্যাঁ, ও ফোন ধরে। আমি সাধারণত ফোন বন্ধ করে দিই। ও ধরে, তারপর আমাকে ফিরতি ফোন করাতে বাধ্য করে। পুরো ব্যাপারটা একটু পাগলামিই মনে হচ্ছে। আমার মনে হয়, আপনারা সবাই পাগল। নোবেল পুরস্কার তার কাছে কী অর্থ বহন করে, জানতে চাইলে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে কার্সন বলেন, পুরস্কারের অর্থ কীভাবে দান করা যায়, সে কথাই তিনি ভাবছেন।

তিনি বলেন, না, না। আমরা শুধু ভাবছি কীভাবে টাকাটা দিয়ে দেওয়া যায়। আমাদের এক বন্ধুর বাড়ি দরকার, আর ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সকে আমরা সব সময়ই অনেক দান করি।

১৯৫০ সালে টরন্টোয় জন্ম নেওয়া কার্সনের লেখালেখির পরিধি কবিতা, গদ্য ও প্রবন্ধজুড়ে। প্রাচীন গ্রিক জগতের বিষয়, পাঠ্য ও পুরাণের সঙ্গে তার কাজ প্রায়ই চোখে পড়ে। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ধ্রুপদি সাহিত্যের অধ্যাপক এবং প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য নিয়ে বক্তৃতার জন্য সুপরিচিত। ১৯৮১ সালে কার্সন ধ্রুপদি সাহিত্যে তার ডক্টরাল থিসিস ‘ওডি এত আমো এরগো সুম’  প্রকাশ করেন। পরে তিনি এটিকে ‘ইরস দ্য বিটারসুইট’ প্রবন্ধে নতুন রূপ দেন। এতে তিনি কামনা নিয়ে এমন অনেক ধারণা গড়ে তোলেন, যা তার পরবর্তী লেখাকে আকার দিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি