যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ এবং আইল অব উইটের মধ্যবর্তী সোলেন্ট প্রণালিতে ভাসমান অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে ১৯ শতকে নির্মিত এক বিশাল ভিক্টোরিয়ান দুর্গ। ‘নো ম্যানস ল্যান্ড ফোর্ট’ নামে পরিচিত এই দুর্গটির ইতিহাস রূপকথার গল্পের চেয়েও নাটকীয়। ফরাসি আক্রমণ ঠেকানোর সামরিক ঘাঁটি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত দ্বীপ, বিলাসবহুল হোটেল এবং অবরুদ্ধ হয়ে থাকার বিচিত্র ঘটনার সাক্ষী এই দুর্গ।
১৮০০ শতকে রানি ভিক্টোরিয়ার শাসনামলে ফরাসি আক্রমণ থেকে পোর্টসমাউথের জাহাজ নির্মাণ কারখানাগুলোকে রক্ষা করতে পামারস্টন ফোর্টস প্রকল্পের অধীনে এই দুর্গটি নির্মিত হয়। তবে দুর্গ নির্মাণ শেষ হতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগলেও ততদিনে সামরিক প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন এসে যায়। ফলে এটি আর ফরাসিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়নি, যার কারণে এসব স্থাপনা ব্যর্থ উদ্যোগ নামে পরিচিতি পায়।
গোলাকার এই কৃত্রিম দ্বীপটি প্রায় ২০০ ফুট প্রশস্ত ছিল, যা ৮০ জন সেনা ও ৪৯টি কামান ধারণের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। ফরাসিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ না করলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সাবমেরিন হামলা ঠেকানো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিমান-বিধ্বংসী অস্ত্র স্থাপনে এটি ব্যবহৃত হয়েছিল।
১৯৫০-এর দশকে সামরিক ব্যবহার বন্ধ হওয়ার পর ১৯৯০-এর দশকে দুর্গটিকে একটি বিলাসবহুল হোটেলে রূপান্তর করা হয়। দুর্গের পুরোনো সামরিক স্থানগুলোকে অতিথিশালা, রেস্তোরাঁ, হেলিপ্যাড ও কাচঘেরা সুইমিং পুলে রূপ দেওয়া হয়। কিন্তু মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় হোটেলটি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। ২০০৪ সালে সুইমিং পুলের দূষিত পানি থেকে একটি রোগ ছড়িয়ে পড়লে এটি গভীর আর্থিক সংকটে পড়ে।
জব্দ হওয়া থেকে রক্ষা করতে ২০০৮ সালে হারমেশ পুনি নামে এক ডেভেলপার দুর্গের একমাত্র চাবি নিয়ে নিজেকে ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ২০০৯ সালে তাকে উচ্ছেদ করা হলে এই বিচিত্র সম্পত্তি দখলের লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটে। পরবর্তীতে হাতবদল হওয়া নো ম্যানস ল্যান্ড ফোর্ট আজও ব্রিটেনের অন্যতম একটি অস্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় স্থাপনা হিসেবে টিকে রয়েছে।
সূত্র: রিপলি’স