ইউক্রেনে ত্রাণ পাঠাতে পোপ লিওকে সহযোগিতার আশ্বাস পুতিনের

রুশ নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনীয় শহর ওলেশকিতে জরুরি সরবরাহ পৌঁছাতে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার পোপ লিও তাকে ফোন করে এ অনুরোধ জানানোর পর পুতিন সহযোগিতার কথা জানান বলে ক্রেমলিন জানিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ভ্যাটিকান জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনীর দখলে যাওয়া ওই শহরে ত্রাণ ও খাদ্য প্রবেশের সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন পোপ। শহরটির বাসিন্দারা ক্রমেই গভীর হতে থাকা খাদ্যসংকটের কথা জানিয়েছেন। সেখানকার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে পোপ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলেও জানায় ভ্যাটিকান।

ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জরুরি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরিতে সহায়তা করার ভ্যাটিকানের ইচ্ছাকে সমর্থন জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে সম্মত হওয়া গেছে। তবে বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির কোনও উল্লেখ ছিল না।

পোপ লিও ও পুতিনের মধ্যে এর আগে একবার কথা হয়েছিল, ২০২৫ সালের জুনে। শান্তির জন্য যেকোনও উদ্যোগের প্রতি হলি সি-র প্রতিশ্রুতির কথাও পোপ পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানায় ভ্যাটিকান।

৭১ বছর বয়সী পোপ ফুসফুসের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারের পর রোমের জেমেলি হাসপাতালে সুস্থ হয়ে উঠছেন। শুক্রবারই ভ্যাটিকান জানায়, তার অবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে এবং তিনি কাজ ও স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে পারছেন। ক্রেমলিন জানায়, পুতিন পোপের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন।

ফোনালাপের পর সাংবাদিকদের ভ্যাটিকানের সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন বলেন, এটি ছিল পোপ লিওর নিজের উদ্যোগ। তিনি এই অবরুদ্ধ শহরের পক্ষে সওয়াল করতে চেয়েছিলেন।

রাশিয়া স্বীকার করেছে, ওলেশকিতে খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহে গুরুতর সংকট রয়েছে এবং দেশটির সেনাবাহিনী তা সমাধানে কাজ করছে। সংকটের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে মস্কো বলছে, শহরটিতে সরবরাহ পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে কিয়েভ। অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, খাদ্য সরবরাহে বাধা দিচ্ছে রাশিয়াই। দুই পক্ষই একে অপরকে সরবরাহ আটকে রাখার জন্য অভিযুক্ত করছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী শহরটি পুনর্দখলে চায়।