ইউক্রেনের জন্য ট্রাম্প-জেলেনস্কি সম্পর্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ

ইউক্রেনের প্রতি গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধের হুমকি, রুশ রফতানিতে শুল্ক মওকুফ এবং রাশিয়াকে যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করতে পারে এমন একটি জ্বলানি চুক্তি, সব মিলিয়ে কিয়েভ ও তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ওয়াশিংটনের সম্পর্কের জন্য এ সপ্তাহটি ছিল ক্ষতিকর। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

জ্বালানির উচ্চ দামে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আংশিকভাবে রুশ শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করছেন। তিনি বারবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ায় নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেন আরও একটি শীত মৌসুমের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, যখন দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় রুশ হামলা চলছে। এ অবস্থায় কিয়েভ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ট্রাম্পের কটূক্তির জবাবে জেলেনস্কি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক রকম তীব্র একের পর এক প্রকাশ্য সমালোচনা করেন। তার ইঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়ার পক্ষ নিচ্ছে। রাশিয়ার অব্যাহত হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রুশ জ্বালানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধের ট্রাম্পের দাবি ইউক্রেন অগ্রাহ্য করবে।

বিরোধ আরও তীব্র হয় শুক্রবার, যখন রাশিয়াসংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্প তা মওকুফ করেন। এতে জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্টে বলেন, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ রাশিয়াকে ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।

ক্রমবর্ধমান এ টানাপোড়েনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির অস্থির সম্পর্ক কিয়েভের জন্য আরও খারাপ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ট্রাম্প এখনও ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করতে পারেন, রণক্ষেত্রের গোয়েন্দা তথ্য ভাগ বন্ধের হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারেন, কিংবা মস্কোর সঙ্গে আরও অর্থনৈতিক চুক্তি করতে পারেন।

জেলেনস্কির মন্তব্য সত্ত্বেও কিয়েভ ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় বলে আলোচনার সঙ্গে পরিচিত ইউক্রেনের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। ওয়াশিংটনে ইউক্রেনীয় দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান দেনিস সিয়েনিক শুক্রবার নিউজম্যাক্সকে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টার জন্য ইউক্রেন ট্রাম্প ও তার দলের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইউক্রেন প্রস্তুত।

শুক্রবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দুজনের সঙ্গেই লেনদেন চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, আমি চাই যুদ্ধ শেষ হোক। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের বর্তমান সদস্য ফ্রিড বলেন, এটি শুধু হারানো সুযোগ নয়, এতে ইউক্রেনে প্রকৃত দুর্ভোগ তৈরি হয় এবং পুতিনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়। কাজেই এর কোনও মূল্য নেই, তা নয়।