ফিনল্যান্ডের এক নির্জন মাঠে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাজারেরও বেশি এক মানবাকৃতি মূর্তি। কোনও মুখ নেই, নেই কণ্ঠস্বর বা চলাফেরা; কেবল যেন একই দিকে নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে সবাই! এরা পরিচিত দ্য সাইলেন্ট পিপল বা নীরব মানুষ নামে, যারা ১৯৮০-এর দশক থেকে একভাবে এই মাঠে জায়গা দখল করে রয়েছে।
কাঠামো অত্যন্ত সাধারণ হলেও অদ্ভুত এক শিহরণ তৈরি করে এসব মূর্তি। প্রতিটি মানবাকৃতি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র দুটি কাঠের টুকরো, আর মাথার অংশটি তৈরি খড় দিয়ে ঢাকা। চোখ, নাক কিংবা মুখ না থাকলেও পুরো জনতা যেন একটি নির্দিষ্ট দিকেই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।
চলাফেরা না করলেও ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় এদের পোশাক। দান করা কাপড়ে সাজানো হয় প্রতিটি মূর্তিকে এবং বছরে দুবার এই পোশাক পরিবর্তন করা হয়। ফিনল্যান্ডের হাড়কাঁপানো শীতের আগমন ঘটলে তাদের গায়ে জড়িয়ে দেওয়া হয় ভারী কোট বা জ্যাকেট।
গা ছমছমে এই শিল্পকর্মটির স্রষ্টা ফিনল্যান্ডের প্রখ্যাত শিল্পী রেজিও কেলা। তবে ১৯৮০-এর দশকে এটি তৈরির পর থেকে তিনি কখনোই এর আসল অর্থ প্রকাশ করেননি। তারা কি কোনও শোকাহত দল? প্রতিবাদকারী? নাকি অলৌকিক কোনও দৃশ্যের দর্শক, সে রহস্য রহস্যই রয়ে গেছে। দশকের পর দশক পেরিয়ে গেলেও কেলা-র এই মুখহীন নীরব জনতা আজও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার অন্যতম এক আজব ও রহস্যময় দৃশ্য।
সূত্র: রিপলি’স