গত শনিবারের ভয়াবহ সহিংসতা ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার নিরাপত্তা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য বিক্ষোভ মোকাবিলায় নীতি নির্ধারণ করতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শুক্রবার শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে কেবল নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নের বিক্ষোভ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে বলে ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। গত সপ্তাহে জীবনযাত্রার মাত্রাতিরিক্ত খরচ ও স্কুলেই নানা অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যা পরবর্তীতে সহিংসতায় রূপ নেয়।
নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে প্যারিসে নৈশকালীন সান্ধ্য আইন সোমবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মার্সেই ও লিওঁ শহরে সমাবেশ নিষিদ্ধ, সান্ধ্য আইন জারি এবং গণপরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামলাতে ব্যর্থতার অভিযোগে অভিযুক্ত সরকার এবার গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ শতাংশ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করছে। বামপন্থি উগ্রবাদীদের সহিংসতায় দায়ী করে ম্যাক্রোঁর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের বৈঠকের পর আরও অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফ্রান্সের প্রধান শিক্ষার্থী ইউনিয়ন ইউএনইএফ আগামী শনিবার সমাবেশের ডাক দিয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮ সালের আলোচিত সরকারবিরোধী ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীরাও প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে পদযাত্রার পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে ম্যাক্রোঁর বৈঠকের কথা থাকলেও ইউএনইএফ জানিয়েছে তাদের কর্মসূচি বহাল থাকবে। সংগঠনটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ম্যাক্রোঁ আমাদের দেশে প্রতিবাদ করার স্বাধীনতাকে খর্ব করছেন এবং যে প্রজাতন্ত্র রক্ষা করার দাবি তিনি করেন, তার মূল্যবোধের মুখে থুতু ফেলছেন।
সহিংসতার আশঙ্কায় প্রধান শহরের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার বন্ধ থাকবে ঐতিহাসিক লুভর মিউজিয়াম এবং লুই ভিটন ফাউন্ডেশন। ‘আর্ট বাসেল’ শিল্পকলা মেলা নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই শুক্রবারে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবারের সহিংসতার পর থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা