গত সপ্তাহান্তে দেশকে নাড়া দেওয়া সহিংসতা ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শনিবারের দেশব্যাপী বিক্ষোভে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে ফ্রান্স। শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ এ কথা জানান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
নিয়মিত ইউনিটগুলোর পাশাপাশি অভিজাত নিরাপত্তা দল এবং ভারী অস্ত্রসজ্জিত মোবাইল স্কোয়াড মোতায়েন করা হবে। সরকার রাস্তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, এমন আশঙ্কা দূর করতে শক্তি প্রদর্শনের এ উদ্যোগ। নুনেজ সাংবাদিকদের বলেন, দাঙ্গাকারী, লুটেরা এবং সহিংসতায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে আমরা আপসহীন থাকব। তিনি আরও বলেন, অতি বামপন্থি গোষ্ঠীগুলো ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করতে এবং আরও নৈরাজ্য ছড়াতে অনলাইনে সরকারি কর্মীদের উসকানি দিচ্ছে।
নুনেজ বলেন, আমরা কোনও সুন্দর, বন্ধুত্বপূর্ণ বিক্ষোভের কথা বলছি না। তিনি আরও বলেন, আগামীকালের (আজ) জন্য আমরা প্রস্তুত। আমরা অত্যন্ত সতর্ক ও অত্যন্ত কঠোর থাকব এবং একেবারে কিছুই ছাড় দেব না।
প্যারিসের কাছে এলোপাতাড়ি গুলি
জীবনযাত্রার ব্যয় ও চাপে থাকা সরকারি সেবা নিয়ে ক্ষোভ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও ইউনিয়নগুলোকে রাস্তায় নামিয়ে এনেছে। তবে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, কট্টরপন্থি জঙ্গি ও তরুণ লুটেরাদের দল এ বিরোধকে কাজে লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে।
কিছু চরম ডানপন্থি রাজনীতিক অস্থিরতার জন্য অভিবাসী ও উগ্রপন্থি ইসলামকে দায়ী করেছেন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে শুক্রবার প্যারিসের পশ্চিমে একটি গাড়ি থেকে গুলি চালিয়ে এক ব্যক্তি একজনকে হত্যা এবং ১২ বছর বয়সী এক মেয়েসহ চারজনকে আহত করেন। কর্মকর্তাদের সন্দেহ, ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণা থেকে তিনি এ কাজ করেছেন।
স্থানীয় মেয়র আলী রাবেহ বলেন, এটি বস্তুনিষ্ঠভাবেই বর্ণবাদী হামলা। চরম ডানপন্থি বক্তব্য উত্তেজনা উসকে দিয়েছে বলে তিনি দায়ী করেন। শনিবার প্যারিসে কেবল একটি ইউনিয়ন বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। দেশের প্রধান শিক্ষার্থী সংগঠন ইউনেফ এবং ২০১৮ সালে উঠে আসা প্রতিষ্ঠানবিরোধী শক্তি ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমাবেশের অনুরোধ নাকচ করা হয়েছে।