রাশিয়ার নতুন ‘ফিলিন’ ক্ষেপণাস্ত্র কী, কেন উদ্বিগ্ন ইউক্রেন?

দীর্ঘায়িত ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক বহরে যুক্ত হওয়া নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিয়েভের সামরিক বিশেষজ্ঞ ও ইউক্রেন সরকার। ‘ফিলিন’ নামের এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ মাইল। এটি আংশিকভাবে থ্রিডি-প্রিন্টেড প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ড্রোন ও হেলিকপ্টার থেকেও উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। মার্কিন ও চীনা যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে নির্মিত অত্যন্ত কম খরচের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি গণহারে উৎপাদন করাও রাশিয়ার জন্য সহজ।

প্রতিটির আনুমানিক উৎপাদন খরচ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা প্রচলিত কেএইচ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের খরচের প্রায় ১৬ ভাগের এক ভাগ। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক দুই ড্রোন উপদেষ্টা সেরহি ফ্ল্যাশ বেসক্রেস্টনভ এবং সেরহি স্টেরনেনকো সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার জেট চালিত অ্যাটাক ড্রোনের চেয়েও ফিলিন ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এটি যেমন দ্রুতগতির, তেমনই চটপটে এবং ভারী যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে গত বৃহস্পতিবার স্টেরনেনকো লিখেছেন, খুব শিগগিরই আমরা এই ধরনের আকাশপথের মারণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, তখন আমরা জেট চালিত শাহেদ ড্রোনের হামলাকে এই ফিলিনের তুলনায় সামান্য একটি সমস্যা বলেই মনে করব।

ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এইচইউআর জানিয়েছে, ১১ ফুট দীর্ঘ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এবং ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের শেষের দিকে রুশ বাহিনী এটি ব্যবহার শুরু করে। এটি ১০০ কেজির একটি ওয়ারহেড বা বিস্ফোরক বহন করতে পারে। রাশিয়া দাবি করেছে, এটি ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ মাইল গতিতে চলে এবং এর পাল্লা ৭৪৫ মাইল। যা রাশিয়ার সবচেয়ে উন্নত জেট ড্রোনের (জেরান-৫) চেয়েও বেশি দ্রুতগামী।

এইচইউআর জানায়, ফিলিন অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়তে পারে আবার প্রয়োজনে ৩.৭ মাইল উচ্চতায় উঠতে পারে। এর মূল কাঠামো কার্বন ও ফাইবার গ্লাস দিয়ে তৈরি, যার কিছু অংশ থ্রিডি-প্রিন্টেড।

বেসক্রেস্টনভের মতে, এসব অস্ত্র মোতায়েন করাও অনেক সহজ। তিনি লিখেছেন, এদের জন্য কোনও বিশেষ ড্রোন পোর্টের প্রয়োজন হয় না; হেলিকপ্টার এবং ইউএভি থেকেই এগুলো উৎক্ষেপণ করা যায়।

এইচইউআর সূত্রে আরও জানা গেছে, এতে রাশিয়ার নিজস্ব তৈরি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা নতুন প্রকাশিত কোভার ও মনোক্রোম ক্ষেপণাস্ত্রেও দেখা গেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নেভিগেশন ও যোগাযোগ প্রতিরোধী বিভিন্ন যন্ত্রাংশে বিদেশি উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৫টি, চীন থেকে ২২টি এবং জাপান, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান ও নেদারল্যান্ডস থেকে ১৩টি যন্ত্রাংশের উপস্থিতির তালিকা তৈরি করেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের বসন্তে প্রথম দেখা যাওয়া বাণিজ্যিক প্রযুক্তিতে তৈরি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্যান্ডেলর’ ইতোমধ্যে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে। ব্যান্ডেলরের মতো ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম খরচের ‘ফিলিন’ দিয়ে রাশিয়া বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা খাত তীব্র ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস