অভয়ারণ্য থেকে ৫ হাজার বিরল প্রজাতির পিঁপড়ার বাসা চুরি, তদন্তে পুলিশ

ইংল্যান্ডের সাউথ ডেভনের চাডলি নাইটন হিথ প্রকৃতির অভয়ারণ্য থেকে অন্তত ৫ হাজার বিরল প্রজাতির ‘ন্যারো-হেডেড’ পিঁপড়াসমেত একটি পুরো বাসা চুরি হয়ে গেছে। ডেভন ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট (ডিডব্লিউটি) জানিয়েছে, অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে সংরক্ষণ গবেষকরা নিয়মিত তদারকির সময় দেখেন, ওই স্থান থেকে একটি পিঁপড়ার বাসা কোদাল দিয়ে খুঁড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিশেষ প্রজাতির পিঁপড়া ইংল্যান্ডের মধ্যে কেবল এই একটি অভয়ারণ্যেই টিকে রয়েছে। পুরো ঘটনাটি ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ডিডব্লিউটি-এর তথ্য অনুযায়ী, ন্যারো-হেডেড পিঁপড়ার একটি একক বাসায় ১ হাজার থেকে ৫ হাজার পিঁপড়া এবং একাধিক রানি পিঁপড়া থাকতে পারে, যা ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। সংস্থাটির কর্মকর্তা স্টিফেন হাসি জানান, চোর নিশ্চিতভাবেই পিঁপড়ার কলোনি সম্পর্কে অভিজ্ঞ। কারণ, সাধারণ মানুষের পক্ষে এগুলো খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।

একসময় দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সমতল ভূমিতে প্রচুর দেখা গেলেও আবাসন ও কৃষিকাজের ফলে বাসস্থান হারিয়ে গত ১০০ বছরে এই পিঁপড়ার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমেছে। এটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) রেড লিস্টে ‘প্রায় বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং ইংল্যান্ডের বন্যপ্রাণী আইনের অধীনে সংরক্ষিত।

চুরির কারণ হিসেবে ট্রাস্টের অনুমান, কেউ হয়তো অন্য কোথাও এই পিঁপড়ার কলোনি পুনর্বাসিত করতে চেয়েছে অথবা কোনও পোকা সংগ্রাহক এটি নিয়ে গেছে। তবে স্টিফেন হাসি সতর্ক করে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এভাবে বাসা সরিয়ে কলোনি বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ডিডব্লিউটি-এর প্রজাতি পুনরুদ্ধার কর্মকর্তা জুলিয়া বেলফোর এই চুরিকে বড় ধরনের ক্ষতি উল্লেখ করে বলেন, একটি পরিণত বাসা গড়ে উঠতে বছরের পর বছর সময় লাগে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের রুরাল অ্যাফেয়ার্স টিমের পিসি লুসি ওয়াট জানান, আইনত সুরক্ষিত এসব বিশেষ বৈজ্ঞানিক অভয়ারণ্যের ক্ষতি করা বা হস্তক্ষেপ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ট্রাস্ট তাদের অভয়ারণ্যের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করছে এবং পুলিশ ঘটনার বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।