বিমানে ১০ শতাংশের বেশি মার্কিন যন্ত্রাংশ থাকায় বিপাকে ইরান

ইরানের সরকারি বিমান সংস্থা ইরান এয়ার তার পুরাতন হয়ে যাওয়া বহর নবায়নের জন্য নতুন বিমান কিনতে চায়। কিন্তু দেশটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার আওতায়। এমন অবস্থায় তাদের কাছে কাছে বিমান বিক্রি করতে পারছে না বিখ্যাত সব বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ আধুনিক বিমানের দশ শতাংশের বেশি যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এবং সেই সূত্রে ইরানের কাছে বিমান বিক্রির জন্য প্রয়োজন মার্কিন অনুমোদনের। যুক্তরাষ্ট্র সে অনুমোদন রদ করে দিয়েছে। এমন অবস্থায় রাশিয়ার কাছ থেকে যাত্রীবাহী বিমান কিনতে পারে ইরান। কিন্তু রাশিয়ার তৈরি যাত্রীবাহী বিমানেও ১০ শতাংশের বেশি মার্কিন যন্ত্রাংশ রয়েছে! বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ইরানের কাছে শখানেক যাত্রীবাহী বিমান বিক্রির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে রাশিয়া তাদের যাত্রীবাহী বিমানে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের যন্ত্রাংশের পরিমাণ দশ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার কথা ভাবছে।সুখোই সুপারজেট ১০০

পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা থেকে ইরানকে নিরস্ত করতে ইউরোপের কয়েকটি দেশ, চীন ও রাশিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও একটি চুক্তি করেছিল। যার শর্ত অনুযায়ী ইরান নির্দিষ্ট মাত্রার ওপরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে না। কিন্তু ২০১৫ সালের ওই চুক্তিটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাকি দেশগুলো ইরানের পাশে থালেও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাহার ও ট্রাম্পের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার কারণে বিপাকে পড়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) ইরানের কাছে বিমান বিক্রির জন্য এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

ইরান এয়ারের প্রধান ফারজানেহ শারাফবাফি বলেছেন, ‘ইরান এয়ারের যে ধরণের যাত্রীবাহী বিমান প্রয়োজন তা সরবরাহ করতে সক্ষম এমন সব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবকে আমরা স্বাগত জানাব। আমরা বিমান ক্রয়ের কথা বিবেচনা করব সেসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যারা ওএফএসির অনুমোদন ব্যতিরেকেই বিমান বিক্রি করতে পারবে।’ আর এমন একটি সম্ভাব্য বিমান হিসেবে তিনি রুশ যাত্রীবাহী বিমান ‘সুখোই সুপারজেট ১০০’ বিমানের নাম উল্লেখ করেছেন। রাশিয়া বলেছে, তারা তাদের ‘সুখোই সুপারজেট ১০০’ বিমানে ব্যবহৃত মার্কিন যন্ত্রাংশের পরিমাণ কমিয়ে দশ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে, যাতে ইরান এয়ারের কাছে বিমান বিক্রি করা যায়। দেশটি আশা করে, তারা ইরানের কাছে ১০০টির মতো যাত্রীবাহী বিমান বিক্রি করতে পারবে।

ইরান এয়ার ২০০টি যাত্রীবাহী বিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছিল; এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০০টি, বোয়িংয়ের কাছ থেকে ৮০টি ও এটিআরের কাছ থেকে ২০টি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের কাছে বিমান বিক্রি করতে পারেনি।