জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে স্বাধীন ভারত বৈদিক সত্যাগ্রহ মথুরা নগরীর জওহরবাগ অঞ্চলে ২৬০ একর ভূমি নিয়ে এক পৃথক ব্যবস্থা চালু করেছে যেখানে বাইরের মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। সেখানে নিজেদের বিচারব্যবস্থা, সংবিধান, কারাগারসহ নানা রকম যোদ্ধাবাহিনীও রয়েছে।
রবিবার এই অবৈধ উপনিবেশ থেকে ৯ শিশুকে নগরীর শিশু ভবনে পাঠানো হয়। এই শিশুদের কাছ থেকেই জানা গেছে সংগঠনটির পরিচালিত ওই অঞ্চল সম্পর্কে বিভিন্ন অজানা তথ্য।
উদ্ধারকৃত শিশুরা তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানায় গণমাধ্যমের সামনে। তারা বলে, সর্বত্র বোমা বিস্ফোরিত হচ্ছিল, পাথর ছোড়াছুড়ি হচ্ছিলো এবং আগুন জ্বলছিলো। আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিও চালানো হচ্ছিলো পুরো এলাকায়।
তারা আরও জানায়, স্বাধীন ভারত বৈদিক সত্যাগ্রহ অধ্যুষিত এলাকায় রীতিমত একটি যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তারা দাবি করে জওহরবাগ কখনও উচ্ছেদ করা যাবে না।
এ সম্পর্কিত আরও খবর: সমালোচনার মুখে সেই পোস্ট সরিয়ে নিলেন হেমা মালিনী
এক শিশু জানায়, রাম যাদবকে তারা নেতাজি হিসেবে সম্বোধন করত। প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সব সময় তাদের উৎসাহিত করা হতো। যাদব তাদের বলতেন, এতে তাদের মুক্তি আসবে।
মথুরার পুলিশ কর্মকর্তা ডি সি মিশ্র বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় আট বছরের শিশুদের হাতেও অস্ত্র তুলে দেন এই গোষ্ঠীর সদস্যরা। এছাড়া পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জন্য শিশুদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।’
এদিকে বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে উস্কানিদাতা রাম বৃক্ষ যাদব নিজেই এই সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বঘোষিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বিপ্লবী যাদবের নামে হত্যা ও ভূমি দখলের অভিযোগে মোট আটটি মামলা রয়েছে।
জানা গেছে, এই গোষ্ঠী নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। তারা নির্বাচন পদ্ধতির বিলোপ ও সবার জন্য জ্বালানির অধিকার আদায় করতে চায়।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এই গোষ্ঠীর দখলকৃত এলাকা উচ্ছেদ করতে গেলে প্রায় ৩ হাজার সদস্য তা প্রতিরোধে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশের উচ্চ পদস্থ দুই কর্মকর্তাসহ মোট ২৪ জন নিহত হয়। সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন:
/ইউআর/এএ/