গত সোমবার রাতে মাতাল অবস্থায় ২৩ বছরের স্ত্রী মনিকাকে হত্যা করেন প্রদীপ। এরপর পাশবিক নির্যাতন শেষে সকাল পর্যন্ত বিছানায় স্ত্রীর লাশের পাশেই শুয়ে থাকেন। এ ঘটনার ৫ দিন পর শনিবার প্রদীপকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রথম দেখায় ভালোবাসা যাকে বলে প্রদীপ ও মনিকার সম্পর্ক ছিল সেরকমই। গত বছর ভাইয়ের বিয়েতে প্রদীপের সঙ্গে পরিচয় মনিকার। স্থানীয়ভাবে শর্মাকে বেকার ও ‘খারাপ’ ছেলে পরিচিত। বিয়ে করার জন্য মনিকাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নিজেকে পাল্টে ফেলবেন ও চাকরি করবেন। প্রথমে এ দম্পতি উত্তর প্রদেশের বুলান্দেশ্বর এলাকায় থাকতেন। ছয় মাস আগে দিল্লিতে ঘর বাঁধেন তারা।
প্রতিশ্রুতি অনুসারে প্রদীপ অটো রিকশা চালানো শুরু করেন। কিন্তু যা আয় করতেন তা দিয়ে বাসা ভাড়া, খাবার ও দৈনন্দিন খরচ মেটানো যেত না। আর্থিক বিষয় নিয়ে নিয়মিত দুজনের ঝগড়া শুরু হতে লাগল। তাদের ঝগড়া কারণে আগে দুটি বাসা থেকে বাড়িওয়ালা বের করে দেয় তাদের।
সোমবার (২৯ মে) রাতেও তাদের মধ্যে বেশ ঝগড়া হয়। তাদের ঝগড়ার প্রেক্ষিতে বাড়িওয়ালা দুই তিনদিনের মধ্যে বাসা ছেড়ে যেতে বলেন। কিন্তু তাতেও তাদের ঝগড়া থামেনি। এক পর্যায়ে মনিকার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন প্রদীপ।
পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে প্রদীপ জানান, আমি খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। স্ত্রীর কাছ থেকে মুক্তি চাচ্ছিলাম। ওই দিন রাতে আমি মদ কিনে নিয়ে আসি। মনিকাকেও পান করতে বলি। আমি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করি যে, আমার আয় দিয়ে সংসার চলছে না বুঝতে পারছি আমি। শিগগিরই ভালো মজুরির কোনও চাকরি খুঁজব আমি। কিন্তু মনিকা তখন নিজের কথা বলা শুরু করে। সে বলতে থাকে কিভাবে আমি তার জীবন ধ্বংস করেছি। এক পর্যায়ে আমি একটি ইট নিয়ে তার মুখে তিনবার আঘাত করি। এতে তার মাথা ফেটে রক্ত গড়াতে শুরু করে এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করে।
প্রদীপ আরও জানান, প্রতিবেশীরা শুনতে পাবে এই ভয়ে তিনি দেয়ালে মনিকার মাথা চেপে ধরেন। যখন নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তখন আমি ছেড়ে দেই। এরপর বাথরুমে মনিকার লাশ নিয়ে ভালো করে পরিস্কার করি। তিনি বলেন, শেষ বারের মতো তাকে আমি ভালোবাসি এবং ক্ষমা চাই। এরপর আমি তার পাশে ঘুমিয়ে পড়ি। পরদিন সকাল দশটায় আমার ঘুম ভাঙে।
প্রদীপ আরও জানান, পুলিশের কাছে ধরা পড়ার ভয়ে তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। এছাড়া মনিকার মোবাইলসহ পরিচয় প্রকাশ পায় ঘরে এমন যা কিছু ছিল তাও সঙ্গে নিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, ৩০ মে তাদের খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এফআইআর থানায় গ্রহণ করা হয়।
পুলিশের জেসিপি (দক্ষিণ-পশ্চিম) দিপেন্দর পাঠক জানান, এসিপি আনন্দ সাগর, ইন্সপেক্টর এস এস রাঠে ও শরৎ চান্দারের নেতৃত্বে মনিকার হত্যাকারীকে গ্রেফতারে বেশ কিছু অভিযান চালানো হয়। পুলিশের অপর সদস্যরা রেলস্টেশনে নজর রাখছিলেন। গোপন খবর পেয়ে শনিবার নাংলই স্টেশনের কাছ থেকে প্রদীপকে গ্রেফতার করা হয়। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এএ/