সেই দাদরিতে ফের গরুর মাংস নিয়ে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

nonameভারতীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশের দাদরি গ্রামে গরুর মাংস খাওয়ার ‘অপরাধ’-এ মোহাম্মদ আখলাককে পিটিয়ে হত্যা করার নয় মাস পর আবারও গ্রামটিতে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। গরু হত্যার অভিযোগে আখলাকের আত্মীয়দের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরেরে দাবিতে সোমবার সন্ধ্যায় সমাবেশ ডেকেছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ।

সম্প্রতি একটি পরীক্ষার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আখলাকের বাড়িতে যে মাংস পাওয়া গিয়েছিল তা গরুর মাংস। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পরই দাদরিতে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

স্থানীয় মহা পঞ্চায়েত-এর ডাকা সমাবেশ বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। এর ফলে সহিংসতারোধে যে কোনও বড় ধরনের সমাবেশ করা যাবে না সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে।

বিজেপি জানিয়েছে, যে কোনও মূল্যে সমাবেশ করা হবে। স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় রানার ছেলে বিশাল আখলাক হত্যার আসামীদের তালিকা রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বরে ভারতের উত্তর প্রদেশের দাদরি এলাকায় গরুর মাংস সংরক্ষণের গুজবে মোহাম্মদ আখলাককে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসী। মাংসগুলো আসলেই গরুর মাংস কিনা তা পরীক্ষা করতে সে সময় স্থানীয় একটি ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে পুলিশ জানিয়েছিল আখলাকের বাড়ির ফ্রিজে যে মাংস সংরক্ষিত ছিল তা গরু নয়, খাসির মাংস। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য মাংসগুলো মাথুরার একটি সরকারি ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর ৩১ মে মাথুরা ল্যাবের ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে মাংসগুলো গরুরই ছিল। ওই ঘটনায় এলাকার এক বিজেপি নেতা সহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
আখলাকের পরিবারের অভিযোগ, নতুন রিপোর্টটি রাজনৈতিক। আখলাকের ভাই মোহাম্মদ চাঁদ বলেছেন, ‘প্রথমে দাদরি পুলিশ বলেছিল ওই মাংস খাসির। এখন বলছে গরুর। এসবই রাজনীতি করার জন্য বলা হচ্ছে।’

তবে পুলিশ বলছে, নতুন রিপোর্টটির কারণে হত্যা মামলার গুরুত্ব কমবে না। কেননা, উত্তর প্রদেশে গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ নয়, কেবল গরু জবাই করা নিষিদ্ধ।

আগামী বছর উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা চলছে সে সময়ই নতুন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো। দাদরি কাণ্ডের পর গোটা ভারতজুড়েই আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিজেপি ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিরোধীরা। সূত্র: এনডিটিভি।

আরও পড়ুন:

/এএ/বিএ/