নিমের সঙ্গে ইউক্যালিপ্টাসের ভেষজ বিয়ে!

নিম ও ইউক্যালিপ্টাসের বিয়েমহা ধুমধাম বিয়ের অনুষ্ঠানে। উলুধ্বনি দিয়ে, শঙ্খ বাজিয়ে, উপচার সাজিয়ে, পুরুত ডেকে রীতিমতো শুভদৃষ্টি থেকে মন্ত্রোচ্চারণ- বাদ যায়নি কিছুই। এলেন অনেক অতিথি, নামী-দামি লোক। বিরাট আয়োজন! বিয়েতে তো এসব স্বাভাবিক। তাহলে এসব বলা হচ্ছে কেন? কারণ, এই বিয়ে কোনও ছেলের সঙ্গে মেয়ের নয়।বিয়েটা যে হরো দুই গাছের, নিমের সঙ্গে ইউক্যালিপ্টাসের।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এই অভিনব পরিকল্পনা নিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পৌরসভা। সোমবার দুপুরে এই বিয়ের অনুষ্ঠানে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। হাওড়া শহরের অনেক মানুষই এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। মেয়েরা পাত্র-পাত্রীকে বরণ করেন শঙ্খ বাজিয়ে ও উলু ধ্বনি দিয়ে। এভাবেই বিয়ে হলো হলুদ কার্পেটের উপরে টবের মধ্যে রাখা দু’টি চারাগাছের।

এই ভেষজ বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়, হাওড়ার মেয়র রথীন চক্রবর্তী, মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য ) ভাস্কর ভট্টাচার্যসহ পৌরসভার অন্যান্য মেয়র পারিষদ ও কাউন্সিলর।

নিম ও ইউক্যালিপ্টাসের বিয়ে১

সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় ও মেয়র রথীন চক্রবর্তী দু’জনে মিলে গাছ দু’টির মধ্যে গাঁটছড়া বেঁধে দেন। নিম গাছের সঙ্গে ইউক্যালিপ্টাসের বিয়ে দেওয়ার আসল উদ্দেশ্য হল মশার বংশবৃদ্ধি কমিয়ে ভেষজ গাছের সংখ্যা বাড়ানো। বর্ষায় পানি জমে মশার বংশবৃদ্ধি হয়। নিম ও ইউক্যালিপ্টাস গাছের জীবাণুনাশক গুণ মশাদের বংশবৃদ্ধি রুখে দেয়। ঠিক এই কারণেই এই প্রতীকী বিয়ের আয়োজন করেছিল পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ।

মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য ) ভাস্কর ভট্টাচার্য জানান, এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষপ্রজনন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ। মশার লার্ভা মারার জন্যে আমরা লার্ভিসাইট অয়েল প্রয়োগ করি। কিন্তু এই সমস্যার ভেষজ সমাধানও সম্ভব। কোথাও নিম ও ইউক্যালিপ্টাস গাছ বসালে তাদের ভেষজ গুণ মশাদের বংশবৃদ্ধি করতে দেয় না।

হাওড়ার মেয়র রথীন চক্রবর্তী বলেন, ‘শিশুদের কাছে পরিবেশের গুরুত্ব পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছিল হাওড়া পৌরসভা।কারণ একমাত্র গাছই পারে পৃথিবীকে দূষণমুক্ত করতে। তাই আমাদের এই উদ্যোগ।’ সূত্র: এই সময়।

/এএ/