কিছুদিন ধরেই রাজন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। আলোচনা হচ্ছিল, তিনি আর ওই পদে থাকছেন না। কেন্দ্রীয় ব্যংকের গভর্নর হিসেবে রাজনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর। শনিবার (১৮ জুন) রাজন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে গভর্নর পদে থেকে যাওয়ার কোনও ইচ্ছাই নেই তার। তিনি ফিরে যাবেন শিক্ষকতায়।
রাজনের ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। ফেসবুক ও টুইটারে জেটলি লিখেছেন, ‘রঘুরাম রাজন তার কাজের মেয়াদ শেষে শিক্ষকতায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা ঘোষণা করেছেন। সরকার তার কাজের প্রশংসা করছে। আর তার সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানাচ্ছে। তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা অবিলম্বে ঘোষণা করা হবে।’
তবে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এই সরকার রাজনকে পাওয়ার যোগ্য নয়।’
সুদের হার পুনর্বিবেচনা করার বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই মোদি সরকার ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জেটলির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল রাজনের। বিজেপি-র সংসদ সদস্য সুব্রমানিয়ম স্বামী দিনকয়েক আগেই রাজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেছিলেন, ‘তিনি (রাজন) ইচ্ছাকৃতভাবেই ভারতের অর্থনীতিকে একটা বিপজ্জনক দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।’ ভারতের নাগরিক হয়েও রাজন যে আমেরিকার ‘গ্রিন কার্ড হোল্ডার’ তা নিয়েও সমালোচনা করেন স্বামী।
ওই রাজনৈতিক সংকটের পর থেকেই রাজনের চলে যাওয়া নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল প্রশাসনের সর্বস্তরে। এর আগে রাজনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি তা এড়িয়ে যান। তবে এবার নিজেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন রাজন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এসএ/এএ/