ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,গত ২২ জুলাই শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় চেন্নাই থেকে পোর্টব্লেয়ার যাওয়ার পথে প্রায় ২৩ হাজার ফিট উচ্চতা থেকে আচমকাই নামতে শুরু করে বিমানটি। তারপর রাডার থেকে উধাও হয়ে যায়। চারটি তল্লাশি বিমান, ১৮টি যুদ্ধজাহাজ ও একটি সাবমেরিন অনুসন্ধান কাজ চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এত বড় কোনও তল্লাশি অভিযান ভারত পরিচালনা করেনি। শনিবার চেন্নাই পৌঁছে আকাশপথে নজরদারি পরিচালনা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্কর৷
জানা গেছে, এএন-৩২ বিমানটিতে চারজন অফিসার, ১৭ জন সামরিক বাহিনীর কর্মী ও আটজন অসামরিক লোকজন ছিলেন। অসামরিক ব্যক্তিরা ছিলেন বিশাখাপত্তনমে নৌবাহিনীর অস্ত্রাগারের কর্মী। যদিও তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিমানবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুসারে, বিমানটির চালকের আসনে ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পুষ্পেন্দ্র বাদসারা। ফ্লাইং অফিসার পঙ্কজ কুমার নন্দ, নেভিগেটর ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যাণ্ট কুনাল বরপাট্টে ছিলেন। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট দীপিকা সেওরানও ছিলেন বিমানে।
চেন্নাই থেকে ১৫১ নটিক্যাল মাইল পূর্বে বাঁ দিকে মোড় নিয়ে মাঝ আকাশ থেকে কার্যত উধাও হয়ে যায় বিমানটি। বিমানবাহিনীর সূত্রে জানা গিয়েছে, সেটি ‘কিউমুলোনিম্বাস’ মেঘের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসেনি। ‘কিউমুলোনিম্বাস’ মেঘের থেকে সাধারণত শিলাবৃষ্টি হয়। মনে করা হচ্ছে, মেঘের মধ্যেই হয়তো শিলাবৃষ্টির আঘাতে বিমানটির কোনও ক্ষতি হয়েছিল। সেখানেই টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়তে পারে। তাই ইসরোর কাছে উপগ্রহ চিত্রের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিখোঁজ হওয়া বিমানটি সুলুর এয়ারবেসে ৩৩ নম্বর স্কোয়াড্রনের অন্তর্গত ছিল। ২০০৯ সালে এই ধরনের ৫০টি বিমানের আধুনিকীকরণ করা হয়। তবে সাধারণত ২৫ বছর বা ২০ হাজার কিলোমিটার উড়ানের পরেই এই বিমানগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ১৯৮৪ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনীর এএন-৩২ বিমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই হিসেবে ২০১৯-এ বিমানগুলির কার্যকাল শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।
এদিকে, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে রবিবার তামিলনাড়ু পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পিটিআই জানায়, ২৯ জন যাত্রীসহ বিমানটি নিখোঁজ হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এএ/