এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, পুঞ্চের নির্মাণাধীন মিনি সচিবালয় এবং এক স্থানীয় ব্যক্তির বাড়িতে স্বাধীনতাকামীরা লুকিয়ে রয়েছে, এমন খবরের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে নিরাপত্তারক্ষীরা। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী স্থানীয় লোকজনদের অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে তল্লাশি শুরু করে সেখানে ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় উভয় পক্ষের বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, এক সঙ্গে কয়েকটি জায়গা থেকে গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে আর্মি ব্রিগেড হেড কোয়াটার। সেনাবাহিনীর ব্রিগেড সদর দফতরই গেরিলাদের টার্গেট ছিল বলে পুলিশ মনে করছে।
এর আগে শুক্রবার দক্ষিণ কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলার তহাব এলাকায় রাতে সিআরপিএফের ক্যাম্পে হামলা হয়। ১৮২ ব্যাটেলিয়ানের ওই ক্যাম্পের জওয়ানরা আগে থেকেই সতর্ক অবস্থায় থাকায় তারা দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করে। উভয়পক্ষের মধ্যে কমপক্ষে ২০ মিনিট ধরে গুলি চলার পর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
কাশ্মিরে চলমান সহিংসতা নতুন করে গতি পায় সেখানে নতুন করে আরও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পর। শনিবার এ ঘোষণার পর নতুন সহিংসতায় দুই বেসামরিক নাগরিকের এ মৃত্যু হয়। ফলে গত দুই মাস ধরে চলমান সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৮ জনে।
দুই মাস আগে কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর থেকে কাশ্মিরজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। ৮ জুলাই বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর কাশ্মিরজুড়ে সহিংস বিক্ষোভে ৭০ জনেরও বেশি নিহত ও প্রায় ১০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
নতুন করে যেসব এলাকায় ফের সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে সেসব এলাকাগুলোতে এখনও বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রামীণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে দক্ষিণ কাশ্মিরে আরও কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, এসব এলাকায় অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর কারণ হচ্ছে ‘টহল জোরদার করা’ এবং ‘এলাকার কর্তৃত্ব নিয়ে’ বিক্ষোভকারীদের কাছে ‘একটি ইঙ্গিত পাঠানো’।
সূত্রমতে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে, এসব সহিংস বিক্ষোভের সঙ্গে ওই এলাকার স্বাধীনতাকামীদের কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে।
এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, ‘কিছু কিছু বিক্ষোভকারী হয়ত স্বতস্ফূর্ত হতে পারে, কিন্তু অধিকাংশকে অনুপ্রবেশকারী পাকিস্তানি সন্ত্রাসীরা সংগঠিত ও উৎসাহিত করছে।’
সামরিক বাহিনী স্থানীয় পুলিশকে সমর্থন যোগাতে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত থাকবেন এবং তারা হত্যা করার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
দক্ষিণ কাশ্মিরের গ্রামীণ এলাকাগুলোর ওপর কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতেই সেসব এলাকায় সেনা মোতায়েতন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। সম্প্রতি এই কর্তৃত্ব অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর কাশ্মিরে ঈদুল আজহা পালিত হবে। তার আগেই এসব সেনা মোতায়েন করা হবে। সূত্র: এনডিটিভি।
/এএ/