দলের সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব নিতে শশীকলা নটরাজন প্রয়াত জয়ললিতা ও দলের প্রতিষ্ঠাতা এম জি রামচন্দ্রনকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানান তিনি।সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘আম্মা সর্বদা আমার হৃদয়ে থাকবেন।’ এই সময় কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেন শশীকলা। এরপরেই তিনি বলেন, ‘৩৩ বছর ধরে আম্মার সঙ্গে দলের বহু বৈঠকে থেকেছি। এআইডিএমকে এখনও বহুদিন শাসন করবে।’
এর আগে দলের কার্যালয়ে প্রবেশের পর তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান দলের নেতারা। দলীয় অফিসে সমবেত হন কয়েক হাজার দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা। গোলাপি পাড়ের হালকা সবুজ শাড়িতে দলের প্রধান কার্যালয় রোয়াপিঠে হাজির হন শশীকলা।
দলীয় পতাকায় ও ফেস্টুনে একসঙ্গে আম্মা ও শশীকলার ছবি দেখা যায়। চিন্নামা শশীকলাকে স্বাগত জানাতে কার্যালয়ে ছিলেন ই মধুসূদন, দলের কোষাধ্যক্ষ তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও পনিরসেলভাম, ছিলেন লোকসভার সহকারী অধ্যক্ষ এম থাম্বিদুরাই। দলীয় কার্যালয়ে তারা সবাই শশীকলাকে আমন্ত্রণ জানান।
দলীয় কার্যালয় জুড়ে রীতিমতো উৎসবের আয়োজন হয়েছিল। দলের প্রতিষ্ঠাতা এমজি রামচন্দ্রনের-এর সমাধির সামনে একটি মঞ্চও তৈরি করা হয়।
জয়ললিতার মৃত্যুর পরই শুরু হয়েছিল আলোচনা। শশীকলাকে দলের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব অনেকের মুখ থেকেই বেরিয়ে আসে তখন। কিন্তু দলের এক অংশের বিরোধীতায় বিষয়টি থমকে ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিষয়টি সুরাহা হয়।দলের কাউন্সিলের শশীকলাকে নেত্রী হিসেবে বাছাইয়ের জন্য একটি রেজুলেশন রাখা হয়। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও পন্নিরসেলভমসহ ২৩ জন সদস্য শশীকলার নেতৃত্বে কাজ করতে রাজি হন।সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শশীকলা নটরাজনের নাম খোদ প্রস্তাব করেছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও পন্নিরসেলভাম। এছাড়া দলের ২০০ জন জেনারেল কাউন্সিল সদস্যও শশীকলাকেই নেত্রী হিসেবে সমর্থন জানান।
প্রসঙ্গত, গত ৫ ডিসেম্বর দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা।
তার মৃত্যুর পর এআইএডিএমকে'র এক কর্মীর সদ্যোজাত শিশুকন্যার নাম সদ্যপ্রয়াত নেত্রীর নামানুসারে ‘জয়ললিতা’ রাখেন শশীকলা। ঘটনাটি চারিদিকে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এএ/