হরিয়ানায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালো বিজেপি, আসন কমলো মহারাষ্ট্রে

ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় টিকে গেলেও হরিয়ানায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদির জন্য এই নির্বাচনি ফলকে সাময়িক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Mandar_Deodhar_image00010-770x433

উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য হরিয়ানায় বিজেপি ৯০টির মধ্যে ৪০টি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে বিজেপির রাজ্য সরকার গঠন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে শিব সেনা-বিজেপি জোট ক্ষমতা ধরে রেখেছে। যদিও গত নির্বাচনের চেয়ে তাদের আসন কমেছে ১৫টি।

সোমবার হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র বিধানসভার নির্বাচন ছাড়াও বেশ কয়েকটি উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। হরিয়ানা বিধানসভার আসন সংখ্যা ৯০টি আর মহারাষ্ট্র বিধানসভার আসন ২৮৮টি। বৃহস্পতিবার সকালে এসব আসনের ভোট গণনা শুরু হয়।

মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিব সেনা জোট ১৬২ আসনে জয় পেয়েছে। তবে ২০১৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাদের মিলিত আসন সংখ্যার চেয়ে এবারে পাওয়া আসন সংখ্যা ১৫টি কম।

আর হরিয়ানায় বিজেপি এখনও একক বৃহৎ দল হলেও সরকার গঠন করতে তাদের জোট সঙ্গী খুঁজতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, হরিয়ানায় ঝুলন্ত সরকার গঠন হতে পারে। রাজ্যটিতে বিজেপির কয়েকজন মন্ত্রীও হেরেছেন। এখানে বিরোধী দল কংগ্রেস পেয়েছে ৩১টি আসন। ফলে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন তাদের আঞ্চলিক দল জননায়ত জনতা পার্টির (জেজেপি) সমর্থন পেতে হবে। তবে বিজেপি নাকি কংগ্রেসকে জেজেপি সমর্থন দেবে তা স্পষ্ট না।

ভারতের এই বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণায় কেন্দ্র থেকেই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এই প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভারত শাসিত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। এই নির্বাচনকে অনেকেই বিজেপি’র কাশ্মির নীতির প্রতি গণভোট হিসেবে দেখছিলেন।

বৃহস্পতিবার কাশ্মিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্থানীয় নির্বাচন। তবে রাজ্যের বেশিরভাগ নেতা এখনও বন্দি রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যোগাযোগ। কাশ্মিরের বিরোধী নেতারা এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের উপহাস আখ্যা দিয়েছেন।

অন্য রাজ্যগুলোতে বিজেপি ভোটারদের বলেছে, তাদের দল জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় ইস্যুগুলো এই নির্বাচনি প্রচারণায় খুব কমই এসেছে।

/জেজে/এএ/