পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা নিয়ে বিজেপি-তৃণমূল বিরোধ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ ইস্যুটি সব সময়েই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যকার বিরোধ মাঝে মাঝেই ছড়ায় উত্তেজনা। আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই ভারতে ২০১৭ সালে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা প্রকাশ করেছে দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি)। আর এতে করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে অনুপ্রবেশকারী ইস্যু।

989

এনসিআরবি প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে ভারতে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে রাজ্যটিতে অনুপ্রবেশকারী বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এই সময়ে ভারতে ২ হাজার ৮৩টি অনুপ্রবেশের ঘটনার মধ্যে রাজ্যটিতে ঘটেছে ১ হাজার ১৮১টি (৫৬.৬৯ শতাংশ)। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৮০। যা ভারতের মোট অনুপ্রবেশের ৫৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।

অনুপ্রবেশের সংখ্যায় রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে পরে অবস্থান করছে তামিল নাড়ু। ২০১৭ সালে রাজ্যটিতে অনুপ্রবেশের ১৬৯টি ঘটনা নিবন্ধিত হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান প্রকাশ হওয়ার পর বিজেপি দাবি করেছে, এতে প্রমাণিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গে পরিণত হয়েছে। আর তৃণমূল দাবি করছে, এতে প্রমাণিত হয় রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে সফল হচ্ছে।

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, আমরা যা বারবার বলে আসছিলাম এই সংখ্যা সেটিই প্রমাণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গে পরিণত হয়েছে এবং এর কারণ রাজনৈতিক সমর্থন। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। কেননা রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে নমনীয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিজেপি নেতা আরও বলেন, জনগণ এখন বুঝতে পারছে কেন আমরা পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাই করার দাবি জানাচ্ছি।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। রাজ্যের সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী তাপস রায় দাবি করেন, এই সংখ্যায় রাজ্যের সতর্কতাই প্রমাণিত হয়। তিনি বলেন, বেশিরভাগ মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা ভারতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতেও আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা কখনও আপস করিনি এবং করব না।