ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি দিলিপ ঘোষ আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য পরিচিতি পাওয়া এই নেতা শুক্রবার দাবি করেছেন, সংবাদমাধ্যম খবরের সন্ধানে থাকে তাই তার দল মানুষকে ঝামেলা তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এখবর জানিয়েছে।
পূর্ব মেদিনিপুরের কন্টাইয়ে এক সমাবেশের কয়েক ঘণ্টা পূর্বে দিলিপ ঘোষ এই মন্তব্য করেন। বিজেপির স্থানীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারা (তৃণমূল) ঝামেলা তৈরি করবে। আমরা ঝামেলা করব। বাংলার রাজনীতির এটিই চরিত্র। আমরা সবকিছুর জন্য প্রস্তুত আছি। আপনারাও (সাংবাদিক) খবরের সন্ধানে থাকেন। এই কারণে মানুষকে ঝামেলা তৈরির সুযোগ করে দিয়েছি আমরা।
বিজেপি নেতার এই মন্তব্যে পশ্চিমবঙ্গে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা ও পার্লামেন্টারি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, সব রাজ্য বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করছে। সহিংসতার মাধ্যমে তারা পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান গড়ে তুলতে চায়। দিলিপ ঘোষ বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে জানেন না।
কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্কসবাদী) বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেন, জনগণ এই ধরনের রাজনীতি মেনে নেয় না। প্রচারে থাকতেই দিলিপ ঘোষ বোকার মতো এসব কথা বলছেন।
এর আগে নভেম্বরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন এই বিজেপি নেতা। তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতীয় গরুর দুধে স্বর্ণ থাকে, বিদেশি গরুতে থাকে না।
আগস্টে তার বিরুদ্ধে তৃণমূল কর্মীদের মারধর করার উসকানির অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছিল, হামলার মুখে পড়লে বিজেপি সমর্থকদের পাল্টা হামলার জন্য কর্মীদের বলেছেন তিনি। সমস্যা হলে দল পাশে থাকবে তাই তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলেও তিনি নিশ্চয়তা দেন।
এছাড়া এক নারীকে নিয়ে মন্তব্য করেও সমালোচনার মুখে পড়েন দিলিপ ঘোষ। দলের সমর্থকরা ওই নারীকে মারধরের পর তিনি বলেছিলেন, হাল্কা ডোজ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওই নারীর দাবি, তিনি দিলিপ ঘোষের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বৈঠক শেষে গাড়িতে ওঠার সময় বিজেপি নেতাকে একটি চিঠি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপি কর্মীরা তাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নেয় ও মারধর করে।