বিহার সীমান্তে নেপাল পুলিশের গুলিতে এক ভারতীয় নিহত হয়েছে। শুক্রবার সকালে বিহারের সীতামারী সংলগ্ন ইন্দো-নেপাল সীমান্তে এই ঘটনায় আরও দুই ভারতীয় আহত হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এখবর জানিয়েছে।
ভারত-নেপাল সম্পর্কে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটলো। ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডকে নিজেদের মানচিত্রে জায়গা দিতে সংসদে সংশোধনী এনেছে নেপাল সরকার। এই ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত ও বাস্তব বর্জিত বলে কটাক্ষ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এসএসবি'র ডিজি জানান, শুক্রবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিট নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে। লগন যাদব নামে এক ভারতীয়কে গ্রেফতার করেছে নেপাল পুলিশ।
এসএসবি'র পাটনা ফ্রন্টিয়ারের আইজি সঞ্জয় কুমার বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। স্থানীয় ও নেপাল সশস্ত্র বাহিনীর এই সংঘর্ষে নিহত একজন ও গুলিবিদ্ধ দুজন।
খবরে বলা হয়েছে, নিহত বিকাশ যাদবের (২২) পেটে গুলি লেগেছিল। উমেশ রাম আর উদয় ঠাকুরকে সীতামারীর বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নেপাল ভূখণ্ডে থাকা লগন যাদবের পুত্রবধূর আচরণের বিরোধিতা করা হয়। নেপাল সীমান্ত পুলিশ জানতে পারে নেপালি ওই নারী ভারতীয় আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাদের ভূখণ্ডে গল্প করছেন।
ইন্দো-নেপাল সীমান্তে কোনও কাঁটাতার নেই। ফলে প্রায় এপার-ওপার যাতায়াত হয়। পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু এদিন এই গল্পগুজবের পরিবেশে আপত্তি তোলে নেপাল সীমান্ত পুলিশ। শুরু হয় দু'পক্ষের বিতণ্ডা। সীমান্তে জড়ো হয় প্রায় ৭৫-৮০ জন ভারতীয়।
নেপাল পুলিশ সূত্রে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, প্রথমে শূন্যে গুলি ছুঁড়ে তারা সতর্ক করার চেষ্টা করে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে এই আশঙ্কায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে গুলি চালায় তারা। এতেই জখম হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি দু'জন চিকিৎসাধীন।