ভারতের তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে পুলিশ হেফাজতে এক ব্যবসায়ী ও তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় দেশটিতে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। গত সপ্তাহে পুলিশি নির্যাতনে তাদের মৃত্যু হয় অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে ‘ভারতের জর্জ ফ্লয়েড’ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, তুতিকোরিনে একটি মোবাইলের দোকান চালাতেন পি জয়রাজ ও তার ছেলে বেন্নিক। লকডাউনের সময় নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখার অভিযোগে পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে যায়। পুরো এক রাত তাদের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। দুই দিন পর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়। তাদের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের মারধর ও নির্যাতনেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করলে বিচার দাবি শুরু হয়। রাজ্যের বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন, ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন পুলিশি নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছে এবং স্থানীয় একটি আদালত বিষয়টি নিয়ে শুনানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাবা-ছেলেকে আটক করা পুলিশ সদস্যদের বদলি করা হয়েছে এবং রাজ্য সরকার নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ ও নিন্দা শুরু হলে তা জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় চলে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তামিলনাড়ুতে পুলিশি হেফাজতে মৃত বাবা-ছেলেকে ভাতের জর্জ ফ্লয়েড নামে ডাকা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
শুরুতে এমন নৃশংস নিপীড়নে মানুষের সামান্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ জানাতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। কারণ অনেক ভারতীয় জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে আসছিলেন। ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে দেরি হওয়ার প্রধান কারণ মনে করা হয় ঘটনাস্থল তুতিকোরিন প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ার কারণে।
তবে ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবা-ছেলের হত্যাকাণ্ড অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। দশ লাখের বেশি প্রদর্শিত একটি ভিডিওতে এক ব্যবহারকারীকে বলতে দেখা গেছে, দক্ষিণ ভারতে যা ঘটেছে তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোতে আমি ক্ষুব্ধ। কারণ এটি ইংরেজিতে নয়। এরপর তিনি বাবা-ছেলের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছেন।
বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনা ও বদলি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। এখন বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে জাতীয় ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ানও কথা বলছেন, বাবা-ছেলের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহীতা দাবি করছেন।
অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া টুইট করে বলেছেন, ‘আমি ওই ঘটনার কথা শুনে চমকে উঠেছিলাম। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। কোনও ব্যক্তি যত বড় অপরাধই করুক, তার ওপরে এইরকম নির্যাতন করা উচিত নয়। অপরাধীরা যেন ছাড়া না পেয়ে যায়।’
ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান বলেন, ‘তামিলনাড়ুতে দু’জনের ওপরে নির্যাতনের খবর শুনে চমকে উঠেছি। আমাদের অবশ্যই প্রতিবাদ জানানো উচিত।’
তামিল অভিনেতা জয়রাম রবি বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যারা এই অমানবিক কাজ করেছে, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।’
গুজরাটের স্বতন্ত্র বিধায়ক জিগনেশ মেওয়ানি টুইট করে বলেছেন, ‘বলিউডের সেলিব্রেটিরা কি শুনেছেন, তামিলনাড়ুতে কী হয়েছে? তারা কি কেবল বিদেশের ঘটনা নিয়েই প্রতিবাদ জানান? আমাদের দেশেও অনেক জর্জ ফ্লয়েড আছেন।’