আফজাল গুরুকে ‘হত্যা’র বদলা নিতেই পাঠানকোটে হামলা!

পাঞ্জাবের পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে হামলায় দেশটিতে নিষিদ্ধ জয়েশ-ই-মোহাম্মদ সংগঠনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা। হামলাকারীদের মোবাইল ফোনের কল শনাক্ত করে ভারতীয় গোয়েন্দারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। হামলার আগে ৪ হামলাকারী পাকিস্তানের তাদের নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেন বলে জানিয়েছেন ভারতের গোয়েন্দারা। এছাড়া হামলাকারীরা অপহৃত পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ি নিয়ে হামলা করে বলেও জানা গেছে।

সন্ধ্যায় চিরুনি অভিযানে আরও এক হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ নিয়ে নিহত হামলাকারীদের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ জনে। হামলায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর তিন সদস্যও নিহত হয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসপির সঙ্গে অপহৃত গুরুদাসপুরের বাসিন্দা রাজেশ ভার্মা জানিয়েছে, হামলাকারীদের সহকর্মী আফজাল গুরুকে ফাঁসি দেওয়ার প্রতিশোধ নিতেই পাঠানকোটে হামলা করা হয়েছে। ভারি অস্ত্রে সজ্জিত উর্দুভাষী হামলাকারী জিপিএস ব্যবহার করছিল। হামলাকারীরা ‘তোমরা আফজাল গুরুকে হত্যা করেছো, আমরা এখন সেই হত্যার প্রতিশোধ নিচ্ছি’ বলে রাইফেলে বাট দিয়ে আঘাত করে বলে জানান তিনি।

২০১১ সালে ভারতের পার্লামেন্টে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিহার জেলে ফাঁসি দেওয়া হয় আফজাল গুরুকে।

হিন্দুস্তান টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, জয়েশ-ই-মোহাম্মদ পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন। এর নেতৃত্বে রয়েছেন মাওলানা মাসুদ আজহার। ১৯৯৯ সালে ১৭৬জন যাত্রীসহ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনের একটি বিমান অপহরণের পর জিম্মিদের বিনিময়ে মাসুদ আজহারসহ ভারতে গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে মুক্ত করে নিয়ে যায় এ সংগঠন।

পাঞ্জাবের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেছেন, বিমান ঘাঁটিতে হামলার আগ মুহূর্তে হামলাকারীরা পাকিস্তানের তাদের নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে। এর সূত্র ধরেই হামলায় জয়েশ-ই-মোহাম্মদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।  সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানের এ সন্ত্রাসী সংগঠনের।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুসারে, হামলাকারীরা গুরুদাসপুরের পুলিশ সুপার সালভিন্দর সিংকে শুক্রবার সকালে সরকারি গাড়িসহ অপহরণ করে। এ সময় আরও দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে হামলাকারীরা। হামলার লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছাতে ও ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে হামলাকারীরা এসপির সরকারি গাড়িটি ব্যবহার করে।

গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, হামলাকারীরা ছিনতাই করা মোবাইল দিয়ে পাকিস্তানে থাকা তাদের নিয়ন্ত্রণকারীর সঙ্গে কথা বলে।  এসপি ও আহত ব্যক্তির কাছ থেকে গোয়েন্দারা গোপন খবর পেয়েছিলেন ভারি অস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসীরা হামরা করতে পারে। এরপর পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছিল।

ভারতের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের বিমান ঘাঁটির সম্পদ ধ্বংস করার পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধান, গোয়েন্দা প্রধান ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা অজিত দবাল উপস্থিত ছিলেন।

এনডিটিভি আরও জানায়, শনিবার দিবাগত রাতে সেনা পোশাক পরে পাঞ্জাবের পাঠানকোট এলাকার বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। সকালে চার হামলাকারীর মৃত্যু নিশ্চিত করার পর বন্দুকযুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। তবে বেঁচে যাওয়া হামলাকারীদের খোঁজে চিরুনি অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় অভিযানে আরও এক হামলাকারীকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে বলে টুইটা বার্তায় জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি জানান, সব হামলাকারী নিহত হওয়ায় চিরুনি অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

পাঠানকোটের বিমানঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের রাজধানী দিল্লি ও জম্মু কাশ্মিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে পাঞ্জাবজুড়েও সর্বোচ্চ সতর্কতা বহাল রয়েছে। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ভারতসহ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে পাকিস্তান অঙ্গীকারাবদ্ধ।

/এএ/