করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে ভারতে তিন মাসের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ৮৭১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, মার্চের ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে ১৬টি রাজ্যের ৭০টি জেলায় ১৫০ শতাংশ সংক্রমণ বেড়েছ। ভয়াবহ এই সংক্রমণ পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ভারতে এখন পর্যন্ত এক কোটি ১৪ লাখ মানুষের করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি মানুষের। গত এক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজারের আশেপাশে থাকলেও বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয় দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরের ডিসেম্বরের পর এটাই এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ।
বিগত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র রাজ্যে। দৈনিক আক্রান্তের ৬০ শতাংশই রাজ্যটির বাসিন্দা। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ হাজার ১৭৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন মহারাষ্ট্রে। মৃত্যু হয়েছে ৮৪ জনের। রাজ্যটিতে এখন সক্রিয় করোনা রোগী ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৩৬ জন।
এচাড়া কেরালায় শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৮ জন, পাঞ্জাবে ২ হাজার ১৩ জন, কর্নাটকে এক হাজার ২৭৫ জন ও গুজরাটে এক হাজার ১২২ জন। এই চারটি রাজ্যেই দৈনিক সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, কোনও কোনও এলাকায় অন্য এলাকার চেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটতে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে যদি এটা আমরা থামাতে না পারি তাহলে দেশজুড়ে একই পরিস্থিতি তৈরি হবে। আমাদের অবিলম্বে দ্বিতীয় ঢেউয়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানো ঠেকাতে হবে এবং বড় ও নীতিনির্ধারক পদক্ষেপ নিতে হবে।
টিকাদান বাড়ালেও ভারতে করোনা সংক্রমণের গতি বাড়ছে। দেশটিতে ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৬৪ লাখ ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যে ৩০ কোটি মানুষকে টিকা প্রয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।