কাশ্মিরে স্থানীয় সরকারের বৈঠকে হামলা, পুলিশ ও কাউন্সিলর নিহত

ভারত শাসিত কাশ্মিরের সোপোরে শহরে স্থানীয় সরকারের একটি বৈঠকে বন্দুক হামলা হয়েছে। সোমবারের এ হামলায় এক পুলিশ সদস্য এবং এক মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলর নিহত হয়েছে। হামলার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসীদের দায়ী করলেও কোনও গোষ্ঠী এর দায় স্বীকার করে না। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিগত কয়েক দশক ধরেই কাশ্মিরে স্বাধীনতার দাবিতে সশস্ত্র লড়াই চলছে। তবে ভারতীয় স্টাবলিশমেন্ট এই আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা হিসেবেই দেখে থাকে। সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে সশস্ত্র স্বাধীনতাকামীদের নিপীড়নের অভিযোগও রয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

সোমবার সোপোর শহরে কাউন্সিলররা বৈঠক স্থলে সমবেত হওয়ার পর সেখানে তীব্র গুলিবর্ষণ শুরু হয়। এতে রিয়াজ আহমেদ নামে এক কাউন্সিলর নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তাও হামলায় নিহত হন।

হামলার পরও ওই এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশাল একটি দল। সেপোরে ছুটে যান ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে কাশ্মিরে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলো। গত বৃহস্পতিবার লাওয়াপোরা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর দুই কর্মকর্তা নিহত হন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের আগস্টে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার। ৩৭০ ধারা বিলোপ করে একে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়। অঞ্চলটিকে জম্মু ও কাশ্মির এবং লাদাখ নামে আলাদা দুটি ভাগে ভাগ করে ফেলা হয়। বাতিল করা হয় কাশ্মিরের বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার। ওই অঞ্চলের ভূমি ও চাকরির ওপর থেকে সেখানকার বাসিন্দাদের বিশেষ সুরক্ষাও বাতিল করে দেওয়া হয়। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে কাশ্মিরের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল।