আদালতের ‘খুনের দায়ে মামলা’ মন্তব্যের পর নির্বাচন কমিশনের পাল্টা তোপ

করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা ভোট আয়োজন করায় মাদ্রাজ হাই কোর্টের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার কমিশন নিজেদের ভাবমূর্তি ‘স্বচ্ছ’ করতে সেই হাই কোর্টেরই দ্বারস্থ হলো। তাদের দাবি, সংবাদমাধ্যমের জন্যই কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা হয়েছে।

ভারতজুড়ে আছড়ে পড়েছে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ। মৃতের সংখ্যা ২ লাখ পেরিয়েছে। প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর ও আক্রান্তের নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের চারটি রাজ্যে ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন করিয়েছে নির্বাচন কমিশন । আসাম, তামিল নাড়ু, কেরালা, পুডুচেরিতে ৬ এপ্রিল নির্বাচন শেষ হলেও পশ্চিমবঙ্গে আটদফা ভোট চলেছে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত । ভয়াল করোনা সংক্রমণের মধ্যেও রাজনৈতিক মিছিলে তুমুল জনসমাগম থেকেই সংক্রমণের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎকরা । আর সেই কারণেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছিল মাদ্রাজ হাই কোর্ট।

মাদ্রাজ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি এক পর্যবেক্ষণে বলেন, করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি থাকার সময় নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের কাছে বিকল্প কোনও পরিকল্পনা ছিল না। আর তাদের গাফিলতির জন্যই দেশে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এমনকী মহামারির দিকে নজর রেখে যথাযথ পদক্ষেপ না করলে গণনা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় আদালতের পক্ষ থেকে। এছাড়া, কমিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

এই বক্তব্যের পর এবার মাদ্রাজ হাই কোর্টের কাছে কমিশনের পক্ষ থেকে আবেদন করে জানানো হয় , সংবাদমাধ্যম যেনও আদালতের শুনানির সময় বিচারপতির মৌখিক পর্যবেক্ষণ দেখে মন্তব্য না করে। লিখিত রিপোর্টের রেকর্ডের উপর ভিত্তি করেই খবর করা উচিত। এই প্রসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব কমিশেনর। মিডিয়ার খবর সেই কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

বিভিন্ন রাজ্যে ভোটের প্রচারের জন্য কোনওভাবেই করোনা সংক্রমণ ছড়ায়নি, বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। নিজেদের বক্তব্যের সপক্ষে তারা দেখিয়েছে যেসব রাজ্যগুলোতে ভোট ছিল না সেখানেও গত কয়েক মাসে ব্যাপক হারে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ফলে কমিশনের দাবি, ভোটের প্রচারের জন্যই করোনা ছড়িয়েছে তা মনে করার কোনও কারণ নেই।

কমিশনের পক্ষে মাদ্রাজ হাই কোর্টে বলা হয়েছে, গত ২০ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের কোভিড পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখা জরুরি। তা থেকেই স্পষ্ট হবে সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য শুধু ভোটই দায়ী নয়।