ঘুষ গ্রহণের মামলায় গ্রেফতার হওয়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার দুই সদস্য এবং অপর দুই নেতার জামিন স্থগিত করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার সকালে তাদের গ্রেফতারের পর প্রায় সাত ঘণ্টা পর জামিন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালত। পরে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই কলকাতা হাই কোর্টে গেলে জামিন স্থগিত করে দেয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত তারা জেল হেফাজতে থাকবেন। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
নারদা কেলেংকারি মামলায় পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে সোমবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে সিবিআই। তৃণমূল এমএলএ মদন মিত্র এবং তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং পরে সেই দলও ছেড়ে দেওয়া শোভন চট্টপাধ্যায়কেও গ্রেফতার করা হয়। এসব নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সিবিআই কার্যালয়ে ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বাইরে বিক্ষোভ করে তৃণমূল সমর্থকেরা।
নিম্ন আদালত ওই চার জনের জামিন মঞ্জুর করলে রাতে কলকাতা হাই কোর্টে যায় সিবিআই। তৃণমূল সমর্থকদের বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে এই বিচার পশ্চিমবঙ্গের বাইরে নেওয়ার আবেদন করে সিবিআই। হাই কোর্ট নিম্ন আদালতের জামিন স্থগিত করে তাদের জেল হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। মামলাটির পরবর্তী শুনানি বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। তার আগ পর্যন্ত তারা প্রেসিডেন্সি জেলে থাকবেন।
২০১৪ সালে নারদা কেলেংকারির টেপ ফাঁস হওয়ার সময়ে ওই চারজনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। টানা তৃতীয় বারের মতো এই মাসে গঠন করা নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যও রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায়।
নারদা নিউজ পোর্টালের এক স্টিং অপারেশনে ফেঁসে যায় তৃণমূল নেতারা। দিল্লির এক সাংবাদিক ব্যবসায়ী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখান। এ কারণে তিনি তৃণমূলের সাত এমপি, চার মন্ত্রী, এক এমএলএ এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘুষ দেন। আর পুরো প্রক্রিয়াটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। ২০১৬ সালে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফাঁস করা হয় ‘নারদা টেপ’ নামের এসব ফুটেজ।
নারদা টেপে অভিযুক্ত তৃণমূলের ১২ নেতার মধ্যে ছিলেন মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারী। ওই সময়ে তিনি তৃণমূলের রাজ্যসভার এমপি ছিলেন মুকুল এবং লোকসভার এমপি ছিলেন শুভেন্দু। পরে তারা দুজনেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
এবারে নন্দীগ্রাম থেকে এমএলএ নির্বাচিত হওয়া শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিচার শুরুর অনুমোদন দেননি লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা। আর মুকুল রায় এখন বিজেপির নির্বাচিত এমএলএ নন। তার বিরুদ্ধেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নারদা অপারেশন পরিচালনাকারী সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েল বলেছেন, সোমবারের অগ্রগতিতে তিনি খুশি তবে কয়েক জন বাইরে থাকায় বিস্মিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুভেন্দু অধিকারীর অফিসে গিয়ে তাকে টাকা দিয়েছি। তার নাম তালিকায় নেই। কী হয়েছে? ফরেনসিক পরীক্ষা হয়েছে আর এটা প্রমাণ হয়েছে...সিবিআই আমার কাছ থেকেই স্বাক্ষ্য নিয়েছে। আমি এটাও জানতে পেরেছি যে শুভেন্দু অধিকারী আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।’