করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে ভারত ৩০ কোটি ডোজ অনুমোদন না পাওয়া ভ্যাকসিন কেনার অর্ডার দিয়েছে। চুক্তি হওয়া ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বায়োলজিক্যাল ই-এর অজ্ঞাত ভ্যাকসিনটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ভ্যাকসিনটির প্রথম ধাপের দুটি পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
২০৬ মিলিয়ন ডলারে এই ৩০ কোটি ডোজ কেনা হবে। এই প্রথম ভারত কোনও ভ্যাকসিন কেনার জন্য চুক্তি করলো যা জরুরি ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগের গতি বাড়াতে ব্যর্থতার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিলো নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার।
ভারতে এখন পর্যন্ত ২২০ মিলিয়নের বেশি ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। যদিও দেশটির ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে অনেক মানুষই ভ্যাকসিন পাওয়ার যোগ্য। দেশটির জনগণের ১০ শতাংশের কম অন্তত একটি ডোজ পেয়েছেন। মূলত ভ্যাকসিন স্বল্পতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
করোনার সংক্রমণ ভারতে কিছুটা কমে আসলেও প্রতিদিন লক্ষাধিক নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষের। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
ভারতে এখন তিনটি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হচ্ছে। সেরাম ইন্সটিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড, ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন এবং রাশিয়ার উদ্ভাবিত স্পুটনিক ভি।
জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিনের ৩৫ কোটি ডোজ কিনেছে ভারত। জানুয়ারিতে চূড়ান্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ হওয়ার আগেই কোভ্যাক্সিনকে জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দেয় ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ভারত সরকারের তথ্য অনুসারে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বায়োলজিক্যাল ই-এর উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে।