ভারতের গ্রামে চলছে ‘করোনাদেবীর’ পূজা

২০২০ সালের গোড়ার দিক থেকে ভারতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে থাকে। বাড়তে থেকে শনাক্ত ও মৃতের পরিসংখ্যান। এমন পরিস্থিতিতে করোনার প্রথম ঢেউ সামলে উঠতে না উঠতেই আঘাত হানে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ। তবে ‘করোনা থেকে সুরক্ষায়’ ভিন্ন এক পথ বেছে নিয়েছে ভারতের একটি গ্রামের মানুষ। কোভিড থেকে বাঁচতে করোনাভাইরাসকে দেবী বানিয়ে পূজা করা শুরু করে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ের মানুষ।

নিম গাছের তলায় মাটি দিয়ে মূর্তি গড়ে, শাড়ি, গয়না পরিয়ে সাজানো হয়েছে দেবীরূপী করোনা মাতাকে। করোনা মাতার মূর্তিতে একটি মাস্কও পরানো হয়েছে। হাতে লাল চুড়ি, চোলি। নিম গাছের তলায় এই মূর্তি বসিয়ে লেখা হয়েছে, বিশ্বের একমাত্র করোনা মাতার মন্দির। তবে এখানেই শেষ নয় প্রতিদিন বহু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এই মন্দির তলায়। ধুপ, মিষ্টি, ফুল দিয়ে চলছে করোনা মায়ের পুজো।

করোনাভাইরাসের এমন এক সুন্দর দেবী রূপ হতে পারে, তা এখানকার মানুষ প্রথম কল্পনা করেছেন। কোভিড থেকে সুরক্ষায় তারা ভরসা রেখেছেন করোনা মায়ের ওপর। পুজো হয়ে গেলে সবাইকে প্রসাদ দেওয়া হচ্ছে। শান্তির পানি ছিটানো হচ্ছে। কিন্তু পুজোতে ঠিক কি মন্ত্র পাঠ হচ্ছে তা জানা নেই। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভাইরাস যদি ভগবান হয়ে যেতে পারে, তবে মন্ত্রও নিশ্চয় এতক্ষণে আবিষ্কার হয়ে গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই দেশে কোথাও করোনা থেকে বাঁচতে গোমূত্র পান! কোথাও আবার গোবর মেখে বসে থাকা। অক্সিজেন দেওয়ার বদলে রোগীকে গোমূত্র খাওয়াতেও দেখা গেছে। সেখানে করোনা ভাইরাস যে দেবী রূপ পেতে পারে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই কঠিন সময়েও মানুষ কুসংস্কারকে অন্ধের মতো ভরসা করতে চাইছে। তবে এই করোনা মাতার সৃষ্টিকর্তা কিন্তু মানুষই। দূর ভবিষ্যতে যখন করোনা থেকে মুক্ত হবে পৃথিবী, সে সময়ও হয়তো থেকে যাবে করোনা দেবী কিংবা করোনা মাতা। হতে পারে তখনও ঘটা করে পুজো হবে করোনা দেবীর।